ব্রেকিং নিউজ :
January 12, 2017

উন্নয়ন মহাসড়কে বাংলাদেশ, সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও সাফল্যের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের তিন বছর পার করল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ব্যর্থতার চেয়ে সাফল্যের পাল্লাই ভারি। পদ্মার বুক চিরে নির্মাণ করা স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। রাজধানীতে মেট্রোরেলের স্বপ্নও এখন বাস্তবের পথে। দেশজুড়ে জঙ্গিবাদ ভয়ঙ্কর সরীসৃপের মতো ফণা তুললেও সরকার দ্রুততার সঙ্গেই বিষদাঁত ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যকর করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সরকারের ভাবমূর্তি বেশ উজ্জল। কৌশলী পররাষ্ট্রনীতিতে বিরোধী শিবিরকেও বাগে আনতে সক্ষম হচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও সরকারের সফলতা আর এগিয়ে যাওয়ার কথা এখন সাধারণ মানুষের মুখে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে জিতে পুনরায় সরকার গঠন করে ১৪ দলীয় জোট। ১২ জানুয়ারি জোট সরকার শপথ গ্রহণ করে। শপথের শুরুতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকলেও সেটিকে পাশ কাটিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে সঠিকভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।  সরকারের  দ্বিতীয়  বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন , বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সফলভাবে কোনো সরকার দেশ চালাতে পারেনি। যেটা আমরা করতে পেরেছি। দেশ আজকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্বের কাছে বিস্ময়।

দুর্নীতির তকমা দূরে ঠেলে নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে পদ্মসেতু। এই পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪০ শতাংশ। এরই মধ্যে মূল সেতুর পাইল নির্মিত হয়েছে ৪০টি। খুলে দেওয়া হয়েছে জাজিরা চার লেন সংযোগ সড়কের মাদারিপুর শিবচর- কাঁঠালবাড়ী পর্যন্ত আট কিলোমিটার অংশ। মূল পদ্মা সেতুর সব কাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে। এদিকে, রাজধানীতে মেট্রোরেলের স্বপ্নও এখন বাস্তবের পথে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে এই প্রকল্পের কাজ।

এছাড়া ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এমআরটি), ঢাকা মহানগরীর অসহনীয় যানজট নিরসনে গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ, সড়কপথে দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও দ্রুতগতিসম্পন্ন করতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের যানজটপূর্ণ ঢাকা-টাঙ্গাইল অংশকে চার লেনে উন্নীতকরণ।

এছাড়া পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোলফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প।

সরকারের গর্ব করার মতো সাফল্যের আরেকটি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির রায় কার্যকর। দেশি-বিদেশি সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে ইতোমধ্যে কাদের মোল্লার পর কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী, আবুল কাশেমের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। দেশজুড়ে জঙ্গিবাদ ভয়ঙ্কর জঙ্গিবাদকে সমূলে অনেকটাই দমন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। গুলশান-শোলাকিয়ার হামলাসহ বিভিন্ন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা নব্য জেএমবি নেতা তামিম-মারজানসহ ৩৫জন জঙ্গি বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে।

অর্থনীতির ক্ষেত্রে স্বল্পআয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশের নিন্মমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু জাতীয় আয় প্রায় তিনগুণ বেড়ে হয়েছে এক হাজার চার শ’ ছেষট্টি মার্কিন ডলার। দারিদ্র্যের হার কমে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। রফতানি বেড়েছে সাড়ে তিনগুণ আর প্রবাস আয় সোয়া তিনগুণ বেড়েছে। প্রায় নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে বত্রিশ বিলিয়ন ডলার। জিডিপির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক এগারো শতাংশ। অবকাঠামোসহ নানা খাতে ব্যয় হচ্ছে লাখো কোটি টাকার বেশি। বেড়েছে জীবনযাত্রার মান।

বর্তমান সরকারের আমলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা পেয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে দু’দেশের ছিটমহলগুলো বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলেই। আর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফর ছিল তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। শি জিনপিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে এক নতুন মাইলফলক তৈরি হয়েছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ,ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শ্রম বাজার আবার বাংলাদেশিদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ বাংলাদেশি গিয়েছেন। এই বছর আরও ১০ লাখ যাবেন বলে জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।

বর্তমান জোট সরকারের সাফল্যের পাল্লা অনেক ভারী হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। যেমন দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত হলেও এক ধরনের অস্বস্তি এখনও বিরাজমান। ফলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থার অভাব রয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ-অবকাঠামো সংকট, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হার অব্যাহত থাকায় শিল্পখাতে বিনিয়োগ কম হচ্ছে বলে জানান অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/টিএম

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।