ব্রেকিং নিউজ :
February 6, 2017

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের যত আলোচিত উক্তি

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের তিন বছর পর মন্ত্রিসভায় স্থান পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। চুল পাকছে, বয়স পঁয়ষট্টির ঘর পার হয়েছে। এরপর মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় বলেছিলেন—‘আমি শেষ ট্রেনের যাত্রী। ’ প্রথম রেলমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর। সে সময় রেলওয়েকে দুর্নীতিমুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, রেলের ‘কালো বিড়ালটি’ খুঁজে বের করতে চাই। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে রেল ভবনে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিককে বলেছিলেন—‘আমারে দিছে রেল। মিটারগেজও বুঝি না, ব্রডগেজও বুঝি না। ’ পরে রেলওয়ের মহাপরিচালককে তিনি ডেকে এনে বিভিন্ন পরিভাষা সম্পর্কে জানেন।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় সিলেট শহরের কোর্ট পয়েন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে তির্যক সুরে বলেন—‘খালেদা বেগম, ঘসেটি বেগম। ’ ২০১১ সালের ২৯ জুন বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনের পর ১৯৭২ সালে সংবিধানে স্বাক্ষর না করার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালে সংবিধান পাসের পর সবাই মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু আমি তখন সংবিধান প্রণয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলেও স্বাক্ষর করিনি। বাহাত্তর সালে আমি ছিলাম একজন তরুণ যুবক। সদ্য যুদ্ধের ময়দান থেকে উঠে এসেছি মাত্র। উদ্যমে, সাহসে ও শক্তিতে টগবগে ছিলাম। তপ্ত যৌবন নিয়ে সংসদে এসেছিলাম। ’

২০১০ সালের ১৩ জুলাই সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, দেশের সবচেয়ে গোপনীয় বিজি প্রেসটি আর গোপনীয় থাকল না। ২০০৩ সাল থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই কাজগুলো এখান থেকে হয়ে আসছে। এ বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি। এ সময় স্পিকারের আসনে থাকা বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তো কিছু বলতে পারি না। তবে আমিও তাই মনে করি। ’

সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা গ্রহণ ও তাঁকে প্রথম দফায় জামিন না দেওয়ার সমালোচনা করে ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট তিনি বলেন, এই মামলার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। আর মামলা নিলেও জামিন দিলেন না কেন? বিচার বিভাগ এখন নির্বাহী থেকে পৃথক ও স্বাধীন। সেখানে নির্বাহী বিভাগের কোনো কন্ট্রোল নেই। তাহলে এটা কিভাবে হলো?

২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বক্তৃতা করে মন্ত্রীদের সংসদে আনা যাবে না। কারণ সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল তত্ত্ব থেকে আমরা সরে এসেছি। তাই সংসদে না এসে অন্য কোনো স্থানে হাজিরা দিয়ে মন্ত্রীরা চাকরি পাকাপোক্ত করেন। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। ’

২০১০ সালের ২৪ জুন সংসদ অধিবেশনে ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল না থাকলেও সংসদ সদস্যদের সাধারণ বাজেট আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলে প্রতিমন্ত্রী বা পরিকল্পনামন্ত্রী উপস্থিত থাকেন। তাঁরাও যদি না থাকেন তবে অর্থসচিব বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংসদের গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে বাজেট আলোচনার নোট নেন এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন। কিন্তু আমি বেশ কয়েক দিন ধরে লক্ষ করছি তেমনটি হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কেউ এই কাজটি করছেন না। ’

২০১৫ সালের ৯ জুন সম্পূরক বাজেট উত্থাপনের প্রচলিত বিধি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সংসদে পাস না হওয়া পর্যন্ত সম্পূরক বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করা যায় না।   কিন্তু সম্পূরক অর্থ খরচ করার পরই সংসদে বিলটি আনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বরাদ্দ খরচ করার পর বিলটি এনেছেন, তবে আমরা ভোট দেব কিসে? অর্থমন্ত্রী ইচ্ছা করলে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করার আগে অর্থ, অনুমিত কিংবা সরকারি সংসদীয় হিসাব কমিটিতে এসে বলতে পারতেন, অতিরিক্ত এই টাকাটি দরকার। সেখানে আলোচনার পর সংসদে বিলটি আনলে ভালো হতো। ’

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গত ২৯ জানুয়ারি জীবনের শেষ বক্তব্য দিয়েছিলেন প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই দিন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, ‘নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি যে সার্চ কমিটি গঠন করেছেন তা গোটা জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘসহ পৃথিবীর কোনো দেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে পারে না। জাতিসংঘ যদি আমাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে চায় তাহলে জাতি হিসেবে আমরা খুব বিব্রত হব। ’ আর বিএনপির এ নিয়ে আর কোনো কথা থাকলে সার্চ কমিটির কাছে তা তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরো বলেন, ‘নতুন ইসি গঠন ও সার্চ কমিটি নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা কথা চলছে। এ ব্যাপারে আমাদের আরো সজাগ থাকতে হবে। আমরা যে যত বড় নেতাই হই না কেন, আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না। একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে বিএনপির যদি ভালো কোনো প্রস্তাব থাকে, তাহলে আমরাও সেটিতে শতভাগ একমত। বরং আমরা এখন যে চর্চা করছি সেটি আমাদের সাংবিধানিক  অজ্ঞতা ও সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। কারণ সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ঊর্ধ্বে, তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার আমাদের  কারো নেই। সুতরাং আমি মনে করি ইসি গঠন নিয়ে যে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে সেখানে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে থেকেই আমাদের সামনে এগোতে হবে। ’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে সুরঞ্জিত বলেন, সুযোগ এখনো চলে যায়নি। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে সাংবিধানিক উপায়ে বিএনপিকে কথা বলতে হবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেই বলেছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেই ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে। এর বাইরে কিছু করার ক্ষমতা রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি।

তথ্যসূত্রঃ বিভিন্ন গণমাধ্যম

 

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।