ব্রেকিং নিউজ :
July 16, 2017

১৭৫৮ টাকার শার্টের দাম ১১,৭৫৮ টাকা রাখলো ইনফিনিটি!

আবারও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠল ইনফিনিটি মেগা মলের বিরুদ্ধে। ১৭৫৮ টাকার একটি শার্টের দাম ১১,৭৫৮ টাকা রাখে প্রতিষ্ঠানটি! পুরো ১০ হাজার টাকা বেশি বিল রাখার কারণ জানতে চাইলে রুমানা বৈশাখী নামের ওই গ্রাহকের সঙ্গে ইনফিনিটির বিক্রয়কর্মীরা খারাপ আচরণও করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইনফিনিটিতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন রুমানা বৈশাখী। ১৫ জুলাই শনিবার বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ইনফিনিটির শোরুমে এই ঘটনা ঘটে।

ফেইসবুকে এক পোস্তে তিনি লিখেন, বন্সুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের “ইনফিনিটি” সম্পর্কে এই কথাগুলো না বললেই নয়

আজ দুপুরে এহসান সাহেবের জন্য একটা টি শার্ট কিনতে গিয়েছি। ইনফিনিটি আমার প্রিয় শপ গুলোর মাঝে একটা, এখানে রিচম্যানের পোশাকগুলি বিশেষ করে। যাই হোক, বিল এলো ১৭৫৮ টাকা। আমার আমেরিকান এক্সপ্রেসের কার্ড দিয়ে পে করলাম। সাইন করে দিলাম… সাইন করার সময় কাউন্টারের ছেলেটি অদ্ভুত করে কথা বলল, যা এতদিন শুনিনি। সে বিলের স্লিপটা হাত দিয়ে চেপে ধরে বল্ল-“এইবার একটা ছোট্ট সাইন করে দিন!”… সাইন শেষ হতেই বলল- “সব টাকা কেটে রেখে দিলাম…!”

আমি কার্ড ইউজার হিসাবে খারাপ। জীবনেও বিলের কপি রাখি না। জীবনেও না। ওখানেই ফেলে দিই, কখনো দেখিও না। ছেলেটি হয়তো ঠাট্টা করছিল, কিন্তু সেই ঠাট্টা শুনেই আমি কাস্তোমার কপিটি চেয়ে নিলাম। কপির দিকে চেয়ে আমার চক্ষু চড়কগাছ- ১১,৭৫৮ টাকার বিল!!! পুরো ১০ হাজার টাকা বেশি…

আমি তাঁকে ধরতেই সে হম্বি তম্বি, ভুল তো কেউ ইচ্ছা করে করে না… ব্লা ব্লা ব্লা। আমি নিজের প্রেস কার্ড দেখালাম (আমি পেশায় সাংবাদিক), বললাম- ম্যানেজারকে ডাকেন। এইবার ছেলে পাশের কাউন্টারের আরেক সেলস ম্যানকে দেখিয়ে বলে- “ওই যে আমাদের ম্যানেজার!” বয়স দেখেই বুঝলাম ওইটা ম্যানেজার না আর ম্যানেজার কাউন্টারে বিল বানায় না। গিয়ে আবারও প্রেস কার্ড দেখিয়ে বললাম একটু বের হয়ে আসেন, কথা বলি। এই দুই সেলসম্যান মিলে ম্যালাখন আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলো যে এখন কিছুই করার নাই। হয় আমাকে এই টাকার পণ্য নিতে হবে, নাহলে তাঁরা বিল “ওয়াইপ আউট” করবে। সাথে যোগ হলো তাঁদের দারোয়ান। ওয়াইপ আউট জিনিসটা কী, সেটা কিছু আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারলো না। বলল যে আমি নাকি টাকা পেয়ে যাব। বললাম নোটিফিকেশন আসবে? বলে-“না”, আকাউন্ট থেকে কাটবে না। বললাম ঠিক আছে আপনাদের ম্যানেজারকে ডাকেন, আমি তাঁর সাথে কথা বলি। তাঁরা ডাকবে না। ওই ছেলেই ম্যানেজার। আর দারোয়ান বারবার বলে আস্তে কথা বলেন। আমি এক সিদ্ধান্তে অটল, আমি ক্যাশ নিব। বিল যেহেতু হয়েই গিয়েছে, ক্যাশ নিতে তো সমস্যা নাই!

হাউকাউ শুনে ম্যানেজার বের হয়ে এলেন বা কেউ ডেকে নিয়ে এলো। সজ্জন চেহারার মধ্যবয়সী ভদ্রলোক। তিনি এসে বিষয়টা শুনলেন, ভেতরে গিয়ে চেক করলেন। ৫ মিনিটের মাঝে ১০,০০০ টাকা রিফান্ড করে দিলেন… (অবশ্যই প্রেস কার্ড দেখে বাড়তি খাতির করলেন) তিনি বারবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন, এটাও স্বীকার করেছেন যে ভুল তাঁদের লোকের।

ইনফিনিটি আমার প্রিয় শপ গুলির মাঝে একটা। এহসানের কাপড় তো বটেই, আমি টাওয়েল, সানগ্লাস এইসব ছোট জিনিসও ইনফিনিটি থেকে কিনি। ঈদের সময়েও আমার মনে হয়েছে, আজও মনে হলো- বসুন্ধরা শাখার সেলসম্যান গুলি বেয়াদব। মহা বেয়াদব… ম্যানেজমেন্টের উচিত ব্যবহার খারাপ লোকজন বিদায় করা। আদার অয়াইজ আমিও হয়তো আর যাবো না… শুধু এটাই নয়, পোশাকের সাইজ বের করতে বললে তাঁরা মহা বিরক্ত হয়। একটির স্থানে দুটি পোশাক বের করতে বললেও তাঁরা মহা বিরক্ত হয়। বিষয়টা এমন যে সাইজে বা রঙে পছন্দ না হলেও সেটি নিতেই হবে! কয়েকজন সেলসম্যানের জন্য প্রিয় স্টোরের বদনাম হোক, সেটা চাই না।

টাকা তো পেয়ে গেলাম, কিন্তু যে যন্ত্রণা আর সময় নষ্টের মাঝ দিয়ে গেলাম, সেটার কী? আর আমার এখন মনে হচ্ছে, সেই দুই সেলসম্যান ও দারোয়ান জড়িত বিষয়টার সাথে। কোন না কোন সমস্যা আছেই। জীবনেও কোন সেলসম্যানকে এমন বিচিত্র কথা আমি বলতে শুনি নাই সাইন করানোর সময়ে… ম্যানেজমেন্টের কেউ এই পোষ্টটি দেখে থাকলে একটু খোঁজ নেবেন। আমার কার্ডটি আমার নামেই- “রুমানা বৈশাখী”। অসংখ্যবার এই কার্ড দিয়ে আপনাদের শপে কেনাকাটা করেছি আমি। ঘটনাটি শনিবার দুপুর ২ টা থেকে ৩ টার মাঝে ঘটেছে।

আপডেট (১৬ জুলাই, ২০১৭)

“ইনফিনিটি” কাস্টোমার কেয়ার প্রতিনিধি মুকুল ভাই কাল রাতেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে বিষয়টি আজ সকালেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিক রওনক একরামের মাধ্যমে চেয়ারম্যান সাহেব জানিয়েছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে চান। আমি বলেছি নো নিড। এবং আজ সকালে একটু আগে আমার ব্যক্তিগত সহকারির কাছে ফোন করে জানিয়েছেন যে তাঁরা দুঃখিত এবং পুরো ব্যাপারটার উপযুক্ত ব্যবস্থা তাঁরা নিয়েছেন… সুতরাং, এরপরও কিছু জানোয়ার যারা এই মর্মে পোষ্ট দিচ্ছেন যে এটা ভুয়া বা আমি এটা করি নাই ওইটা করি নাই বা প্রমান পোষ্ট করি- তাঁদেরকে বিশেষ অনুরোধ যে ইনফিনিটিতে যাবেন। নিশ্চয়ই তাঁদের সিসি টি ভি আছে, সেখানে ফুটেজ দেখে আসবেন। কী হয়েছে সেখানেই দেখা যাবে। ১০ হাজার টাকা উনারা রিটার্ন দিয়েছে সেই মর্মে আমি সাইনও করে দিয়ে এসেছি। সেটাও দেখে আসবেন। আপনাদের কাউকেই আমি বলি নাই যে আমার স্ট্যাটাসে এসে কমেন্ট করেন, লাইক দেন। আমি আমার অভিজ্ঞতা জানিয়েছি। এবং সেটা আমি জানাতেই পারি। এর জন্য আপনাদের কাছে জবাব দিব কেন? আপনারা আপনাদের কুৎসিত অস্তিত্বটা নিয়ে অন্য কোথাও যান। জাস্ট গো!

প্রসঙ্গতঃ গত মাসে ট্রায়াল দিয়ে পোশাক না কেনায় গ্রাহককে লাঞ্ছিত করার উঠেছিল ইনফিনিটির এক কর্মীর বিরুদ্ধে।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।