ব্রেকিং নিউজ :
August 12, 2017

কলকাতা ভ্রমণের টিপস

সাইদুল ইসলাম

কলকাতা ভ্রমণের বাহন হিসেবে বিমানে যাওয়া ভালো সময় কম লাগে, ভাড়াও বেশি না। আর বিদেশ যাবার ফিলিংসটাও থাকবে। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র এয়ারপোর্ট ভাল, এখানেই ট্যাক্সি পাবেন। লাইন দিয়ে কাউন্টারে দাঁড়ালে গন্তব্য অনুযায়ী ভাড়া নিয়ে রশীদ দিয়ে আপনাকে ট্যাক্সিতে উঠিয়ে দেবে। আপনার আর তেমন কোন চিন্তা নেই। ডলার এয়ারপোর্টে ভাঙ্গাবেন না। সে জন্য অন্ততঃ শ’পাচেক রুপি আগে থেকেই নিয়ে যাবেন। টাকা ভাঙ্গানোর জন্যে আমি সবচেয়ে সুবিধের দোকান পেয়েছিলাম মির্জা গালিব স্ট্রিটে, নাম সোহাগ মানি এক্সচেঞ্জ। সোনা ভাই নামের একলোক থাকতেন দোকানে বাংলাদেশি হাজার টাকার নোটে ভালো রেট দিতেন, ডলারেও তাই।

আমরা যে কয়বার গিয়েছি, মির্জা গালিব স্ট্রিটে ( আগে নাম ছিল ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) ছিলাম। এখানে অনেক হোটেল এবঙ্গনেক বাংলাদেশি পাবেন। আমার এখানে থাকার কারণ হচ্ছে এখান থেকে নিউ মার্কেট কাছে, খাবার দোকান (কস্তুরি) কাছে, কেনা কাটার জায়গা আছে। আমি ছিলাম হাউজেস ৪৩ তে। ঠিকানা সোজা, ৪৩, মির্জা গালিব স্ট্রিট। এই রোডের অন্য হোটেল গুলি কোন এক সময় বাসাছিল, পরে হোটেলে কনভার্ট করা হয়েছে। এটা না হলে আপনি স্যাপায়ার স্যুটে থাকতে পারেন, এর সামনেই নিউ মার্কেট।

কি কিনতে চাচ্ছেন তার ওপরে নির্ভর করে আপনি কোথায় যাবেন।  মলের নধ্যে আমার পছন্দ সাউথ সিটি মল। ট্যাক্সি ওয়ালারা চেনে। মেট্রোতেও এর কাছাকছি যাওয়া যায়। এখানে অনেক রকম দোকান আছে। তার মধ্যে আমার পছন্দ স্পেন্সার, এখানে পোষাক থেকে তৈজস, খাবার দাবার সব পাবেন। এছাড়া, পোষাকের জন্যে প্যান্টালুন ভালো, সাউথ সিটি মল ছাড়াও প্যান্টালুন পাবেন অনেক জায়গায়, আপনি যদি স্যাফ্যায়ার স্যুট বা নিউ মার্কেটে থাকেন সেখানেও কাছা কাছি পাবেন। আরেকটা দোকান আছে বিগ বাজার এখানে কিনেও আনন্দ পাবেন। বাজার কলকাতা নামে একটি কাপড়ের দোকান আছে নিউ মার্কেটের উল্টো দিকে।

পাঞ্জাবি কেনার সবচেয়ে ভালো দোকান নিউমার্কেটে বিহারিদের দোকান। শাড়ির জন্যে সবচেয়ে ভালো কলেজ স্ট্রিটের মোড়। চামড়ার জুতো, ব্যাগ, বেল্ট, স্যুটকেস সবকিছুর সেরা দোকান মির্জা গালিব স্ট্রিটের শ্রী লেদার্স। যে সব শাড়ীর বিজ্ঞাপন ইন্ডিয়ান চ্যানেলের দৌলতে আমরা দেখি তার সবই পাবেন এখানে। দোকান গুলো আমাদের গঞ্জের দোকানের মত, সরু সিঁড়ি, তক্তপোষ, বেশির ভাগ লোক আপনাকে ইম্প্রেস করার জন্যে জগাখিচুড়ি একটা বাংলাদেশি বাংলা ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করবে।বড় বাজারে যাবেন মশলা পাতি, চুড়ি, শুকনো খাবার এসবের জন্যে। যদি বয়স্কদের শাড়ি, গরদ টরদ কিনতে চান তাও এখানে।

বাংলাদেশিরা কস্তুরিতে খাবার দাবারের জন্য বেশি যায় এটি মির্জাগালিবের কাছেই। সকালের নাস্তা আপনি রাস্তা থেকেও কিনতে পারেন। বেশির ভাগ হোটেলেই সকালে নাস্তা দেয়। কলকাতায় সাবওয়ে, পিজা হাট, কে এফসি আছে।  গরুর মাংস পাওয়া যায় মির্জা গালিবস্ট্রিটের ইসলামি ইয়াদ্গার হোটেলে। দই চিড়া খেতে পারেন, আরেকটি মজার ব্যপার হচ্ছে, মিষ্টির দোকান থেকে আপনি একটি মাত্র মিষ্টিও কিনতে পারবেন নিঃসংকোচে। কাচ্চি বিরিয়ানি পাওয়া যায় বড় বাজারের কাছে।

বিনা পয়সার দেখার জন্যে ময়দান, নিউমার্কেট, সল্টলেক সিটি, গঙ্গা ( কলকাতায় আসলে কিন্তু হুগলি নদী), ৮ সেক্সপিয়ার সরণী ( প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অফিস)। টিকেট কেটে দেখার জন্যে জোড়া সাঁকো ঠাকুর বাড়ি, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, প্ল্যানেটেরিয়াম, চিড়িয়া খানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন । একদিনের জন্যে ট্যাক্সি ভাড়া করতে পারেন। প্রথমে, ভিক্টোরিয়া মেমরিয়াল দেখে চিড়িয়া খানা, তারপর বোটানিক্যাল গার্ডেন, বিদ্যাসাগর সেতু, গঙ্গা একদিনে। আর একদিন যেতে পারেন জোড়া সাঁকো। পুরো একদিন হাতে পেলে শান্তি নিকেতন।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।