ব্রেকিং নিউজ :
August 24, 2017

২৮ শে আগস্ট থেকে হাইড্রোলিক হর্ন বাজালে যানবাহন জব্দ

যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছে না কেউ। দেশের ৮০ শতাংশ যানবাহনে এখনো ব্যবহার হচ্ছে হাইড্রোলিক হর্ন। যা ১০০ ডেসিবলেরও বেশি মাত্রার শব্দ সৃষ্টি করে থাকে। সাধারণভাবে মানুষ ৪০ থেকে ৪৫ ডেসিবল মাত্রার শব্দই ভালো শুনতে পায়। এর বেশি মাত্রার শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তিসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করে।

মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহারে মাত্র ১০০ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে জরিমানা মাত্র ১০০ টাকা হওয়ায় গাড়ির চালকরাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন না। তাছাড়া অনেক চালক আইনে হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধের বিষয়টি জানেও না। বিআরটিএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশেষে ঢাকা মহানগরে চলাচলকারী সব যানবাহনের হাইড্রলিক হর্ন আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে হাইড্রলিক হর্নের আমদানি বন্ধ করে বাজারে এখনো যেসব হর্ন রয়েছে তা জব্দ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এর আগে সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তাছাড়া আগামী ২৭ আগস্টের পর গাড়িতে হাইড্রলিক হর্ন বাজালে সেই গাড়ি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আমদানি বন্ধের পাশাপাশি বাজারে থাকা সব হাইড্রোলিক হর্ন আগামী সাত দিনের মধ্যে জব্দ করতে হবে। বুধবার শুনানি শেষে আদালত এক রুল জারিরও নির্দেশ দিয়েছেন। রুল অনুসারে কেন সারা দেশে হাইড্রলিক হর্ন বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপিসহ ২০ জনকে এ রুলে বিবাদী করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ গত এক বছরে ১০ হাজার হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করেছে। বুধবার নগরীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ‘শব্দদূষণ ও হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে করণীয়’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হাইড্রোলিক হর্নের অননুমোদিত ব্যবহার কমে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দ করা হাইড্রোলিক হর্নগুলো ধ্বংস করা হয়।

কমিশনার বলেন, বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দেদার হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করছে। সাধারণ হর্নের তুলনায় হাইড্রোলিক হর্নে অনেক গুণ বেশি শব্দ হয়। এসব যানবাহন শহর ও মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হাইড্রোলিক হর্নের শব্দে ঘুম থেকে মানুষ আঁতকে ওঠে। এই হর্ন রাস্তার পাশে থাকা হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুতর শব্দদূষণ ঘটায়। এই হর্নের শব্দ এক কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত শব্দদূষণ করে।

তিনি বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর পেছনে গাড়িচালকদের অজ্ঞতা, গাড়ির মালিকের নিয়ন্ত্রণহীনতা, যত্রতত্র হর্ন কেনাবেচা, গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান কম হওয়া, শাস্তির পরিমাণ কম হওয়া, সতর্কতামূলক রোড সাইন কম থাকা, প্রশিক্ষণের ঘাটতি ইত্যাদি বিষয় দায়ী।

রাজধানীতে রাতে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের মতো ভারী যানবাহন হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসী, চালক, মালিক, হর্নবিক্রেতা, প্রস্তুতকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

এদিকে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বিষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) বিজয় ভূষণ পাল জানান,  প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৪/৫টি দল মাঠে কাজ করেন। তারা ফিটনেস, কালো ধোঁয়া, অবৈধ পার্কিং, শব্দদূষণ ও অধিক মাল ও যাত্রী পরিবহনসহ বিভিন্ন অপরাধের আইনানুগ ব্যবস্থা নেন। তবে এখন মোটরযান আইনটি সংশোধনের কাজ চলছে। খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। নতুন আইনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়টি আরো গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করা হবে।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।