ব্রেকিং নিউজ :
September 2, 2017

ভারতে ভয়ঙ্কর ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের হানা!

ভারতের কলকাতার এবার ‘নীল তিমি’র হানা দিয়েছে বারাসতে। ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের সাম্প্রতিক শিকার বারাসত গার্লস স্কুলের একাদশ ও নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী। তাদের মধ্যে এক ছাত্রী গেমের প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়েও পৌঁছে গিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সচেতনতার কারণে রক্ষা পায় ওই দুই ছাত্রী।

তিনি খবর দেন বারাসত থানায়। বিধাননগর সাইবার সেল বিশেষজ্ঞ ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দারা ঘটনাস্থলে যান। রাজ্যে নীল তিমি’র মারণ প্রভাবে উদ্বিগ্ন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।

সূত্র মতে, গত কয়েকদিন ধরেই দুই ছাত্রীর আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করেন তাদের অভিভাবকরা। রাজ্য প্রশাসন যে এই মারণ গেমের বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক থাকতে বলেছে, সেই বিষয়টি জানতেন বারাসত গার্লস স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা। এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই ছাত্রীদের সম্পর্কে জানান।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানতে পেরেছেন, গত ১৫ দিন ধরে ওই দুই ছাত্রী ব্লু হোয়েল গেম খেলছিল। এক ছাত্রী অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। তার হাতে মিলেছে অস্বাভাবিক কাটা দাগ। ছাত্রীদের মোবাইল ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, এটা কি আদৌ ‘নীল তিমি’ হামলা নাকি কোনও অসাধু চক্র কোনওভাবে ওই ছাত্রীদের ক্ষতি করতে চাইছিল?

দুই ছাত্রীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ইদানিং ওই দুই ছাত্রী পড়াশোনার চেয়ে বেশি মোবাইল ফোন ঘেঁটে সময় কাটাত। বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলত না সেভাবে। রাতেও ঠিকমতো ঘুমাতো না। তবে ঠিক সময়ে কাউন্সেলিংয়ের পর আপাতত ওই দুই ছাত্রীই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানতে পারা গিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন জানিয়েছেন, এরকম মারণ খেলার হাত থেকে বাঁচাতে পড়ুয়াদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের উপর রাশ টানতে হবে অভিভাবকদের। পাশাপাশি, স্কুল-কলেজে যেন ছেলেমেয়েরা মোবাইল ব্যবহার না করে, সেদিকে শিক্ষকদের বাড়তি নজর দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়ার এই খেলা আসলে কোনও নির্দিষ্ট ‘গেম’ নয়। এটি একটি চ্যালেঞ্জ যা ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে খেলতে হয় প্রতিযোগীদের। একের পর এক ধাপ পেরিয়ে শেষ ধাপে আত্মহত্যা করতে হয় প্রতিযোগীকে। এদিনই ব্লু হোয়েল গেমের মূলচক্রী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করে রুশ পুলিশ। ১৭ বছরের ওই কিশোরী নিজেও একসময় ব্লু হোয়েল গেম খেলত, কিন্তু শেষ ধাপে গিয়ে সে আত্মহত্যা না করে একটি গ্রুপের অ্যাডমিন হয়ে যায়। তার এই গেমের কারণে কমপক্ষে ১৩০ জনের প্রাণ গিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংবাদ প্রতিদিন

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।