ব্রেকিং নিউজ :
September 7, 2017

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

এফবিসিসিআই এবং চামড়া শিল্পের সংগঠন- বিটিএ, বিএইচএসএমএ ও বিএফএলএলএফইএ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ অর্থনীতিতে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ বাড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে রয়েছে গবাদিপশু বিক্রি বাবদ ২১ হাজার কোটি টাকা, পশুর চামড়া বেচাকেনায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং পরিবহন খাতে ৬০০ কোটি টাকা। এছাড়া অন্য খাতে এই ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হয়। এ ছাড়া কোরবানি পশুর চামড়া নষ্ট ও পাচারসহ প্রতি পিস চামড়ার দাম গড়ে ১ হাজার টাকা ধরা হলে চামড়া ক্রয়-বিক্রয় বাবদ লেনদেন হয় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

কিন্তু এবারে রাজধানীসহ সারা দেশে কোরবানির পশুর বেচাকেনা তুলনামূলক কম হয়েছে। দামও আগের বারের চেয়ে কমে হয়েছে। এর পাশাপাশি চামড়ার দামে গেছে চরম মন্দা। এছাড়া কোরবানি উপলক্ষে চামড়া কেনার জন্য ব্যাংকগুলো কমপক্ষে ৯০০ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের ঈদে লেনদেন ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘরেই ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর দেশে পশু কোরবানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ। চলতি বছর দেশের বাজারে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু। এবার কী পরিমাণ পশু জবাই হয়েছে তার পরিসংখ্যান এখনো প্রস্তুত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার করণে কোরবানি কম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অধিদপ্তরের মতে, চলতি বছর কোরবানিযোগ্য গরু-মহিষ ছিল ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার, ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭১ লাখ। গত বছরের চেয়ে এবার চাহিদা যদি ১০% বাড়ে, তাহলে এবার ১ কোটি ২০ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। সে হিসাবে এবার গড় ১টি গরুর মূল্য কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা মূল্য ধরলে কোরবানিতে গরুর বাণিজ্য হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এদিকে দেশে কোরবানি যোগ্য ছাগল-ভেড়া রয়েছে ৭১ লাখ। বর্তমানে ছাগলের বাজারদর সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গড়ে প্রতিটি ছাগল ২০ হাজার টাকা ধরা হলে এ বাবদ প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হবে। এ হিসাবে কোরবানির পশু বেচাকেনা বাবদ লেনদেন হওয়ার কথা ছিল ৫০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু পশু কোরবানির কম হওয়ায় সেই পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকার নিচে চলে এসেছে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত বছর ৪০ লাখ ৬১ হাজার গরু কোরবানি হয়েছিল। যার মূল্য ছিল ১৭ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। এবার প্রায় ৫০ লাখ গরু কোরবানি হওয়া প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে পশু কোরবানি কম হলেও গত মাসে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে রেকর্ড হয়েছে। আলোচ্য মাসে দেশে প্রায় ১৪২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোরবানির ঈদে সব সময় রেমিট্যান্স বাড়ে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।