ব্রেকিং নিউজ :
September 10, 2017

কম খরচে ঘুরে আসুন থাইল্যান্ড

কয়েকদিন ছুটিতে ঘুরে আসুন থাইল্যান্ড থেকে। খরচও বেশি নয়। পরিকল্পনামাফিক গেলে তুলনামূলক কম খরচেই চার-পাঁচদিনের থাইল্যান্ড সফর সেরে আসতে পারবেন অনায়াসে।

ব্যাঙ্কক
‘শপার্স প্যারাডাইস’!  কথাটা যে কতটা সত্যি, মালুম পড়ে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ককে পা রাখলে। জলের দরে পোশাক তো পাবেনই, এমনকী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডিজাইনার পোশাকের দামও ওখানে কলকাতার চেয়ে ঢে়র কম। এতো গেল শপিংয়ের গপ্পো। ব্যাঙ্ককের নাইট লাইফও যথেষ্ট আকর্ষণীয়। এই শহরেই রয়েছে, সাফারি ওয়ার্ল্ড। আট বর্গকিলোমিটার এলাকার উপর অবস্থিত এই অ্যামিউজমেন্ট পার্ক তৈরি হয়েছিল ১৯৮৮ সালে। পার্ক কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি পর্যটক আসেন সাফারি ওয়ার্ল্ডে। সিল মাছের কসরত, ডলফিনের পোল-জাম্প দেখতে পাবেন এই পার্কে। সঙ্গে রয়েছে, স্টান্ট শো’ও। চাইলে গ্র্যান্ড প্যালেস এবং ওয়াট অরুণের মন্দিরও দেখে আসতে পারেন।

ক্র্যাবি
থাইল্যান্ডের সবচেয়ে মনোরম সৈকতগুলো রয়েছে ক্র্যাবিতেই। মূল ভূখন্ড থেকে এখানে বোটে করে যেতে হবে। একদিকে সবুজ গাছপালায় ঢাকা চুনাপাথরের পাহাড়। অন্যদিকে সমুদ্র। পাহাড়ের গা ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য রিসর্ট। সেখানে রাত্রিযাপনের দরও বিভিন্ন। চাইলে পরিবারের জন্য আস্ত বাংলোও বুক করে নিতে পারবেন। ক্র্যাবি আইল্যান্ডে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের একাধিক বন্দোবস্ত রয়েছে। স্কুবা ডাইভিং, জেট স্কিয়িং, কায়াকিং, ওয়াটার র‌্যাফটিংয়ের বন্দোবস্ত— কী নেই এখানে। যাঁরা ট্রেকিং করতে ভালবাসেন, তাঁরাও নিরাশ হবেন না!  রয়েছে ট্রেকিংয়ের বন্দোবস্তও। এছাড়া এই ক্র্যাবিতেই রয়েছে ডায়মন্ড কেভ। যার সৌন্দর্য দেখতে সারা বছর পর্যটকেরা ভিড় জমান ক্র্যাবিতে। চাইলে ডায়মন্ড কেভ রিসোর্টেও রাত্রিযাপন করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে ট্যাঁক থেকে একটু বেশি কড়ি খসাতে হবে।

ফুকেত
একদিকে শহরের ব্যস্ততা, অন্যদিকে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য— এককথায় এই হল ফুকেত। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্কক থেকে ফুকেতের দূরত্ব প্রায় ৮৪৮ কিলোমিটার। চাইলে সড়ক পথে ব্যাঙ্কক থেকে ফুকেত যেতে পারেন। কিন্তু তাতে সময় লাগবে প্রায় আট ঘন্টা। খরচও যথেষ্টই। তার চেয়ে ব্যাঙ্কক থেকে ফ্লাইটে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে পৌঁছে যাবেন ফুকেতে। খরচও আয়ত্তের মধ্যে। পর্যটকের ভিড় বেশি হলেও ফুকেতের দক্ষিণ প্রান্তের সৈকতগুলোতেই যাওয়া শ্রেয়। যেমন— কারোন বা রাওয়াই বিচ। কারণ, ফুকেতের উত্তর এবং পূর্বপ্রান্তে বিচগুলোর পরিকাঠামো খুব একটা উন্নতমানের নয়। বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার স্পোর্টসের বন্দোবস্ত রয়েছে ফুকেতের বিচগুলোয়। রয়েছে কোরাল আইল্যান্ডে স্কুবা ডাইভিং এবং প্যারা-গ্লাইডিংয়ের বন্দোবস্ত। সময় পেলে চালংয়ের বুদ্ধমন্দির এবং ফুকেতের বিখ্যাত বুদ্ধমূর্তিও দেখে আসতে পারেন।

পাটায়া
এই শহরের প্রধান আকর্ষণ এখানকার নাইটলাইফ। স্থানীয়রা রসিকতা করে বলেন, ‘এই শহর ঘুমোয় না’! ব্যাঙ্কক থেকে সড়কপথে দেড় ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহর। সাধারণ বাঙালির একটা মনে ধারণা রয়েছে, পাটায়া নাকি প্রাপ্ত বয়স্কদের শহর! কথাটা খুব একটা ভুল নয় যদিও!  তবে এখানে এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে পরিবারের সকলকে নিয়ে দিব্যি বেড়িয়ে আসতে পারবেন। যেমন, আর্ট ইন প্যারাডাইস মিউজিয়াম। যেখানকার ওয়াল পেন্টিং দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হবে! রয়েছে ফ্লোটিং মার্কেট। যেখানে গোটা একটা বাজার তৈরি করা হয়েছে জলাশয়ে উপরে। চাইলে ওয়াটার পার্কে বাড়ির কচিকাঁচাদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। সন্ধের দিকে চলে যান আলকাজার শো দেখতে। শো’য়ের টিকিটের দাম সামান্য চড়া হলেও, পয়সা উসুল হয়ে যাবে। পাটায়া থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টায় কোরাল আইল্যান্ডের ফেরি ছাড়ে। সপরিবারে ঘুরে আসুন। চাইলে প্যারাগ্লাইডিং এবং স্কুবা ডাইভিংও করতে পারেন। এই শহরেই রয়েছে ওয়াকিং স্ট্রিট। যা কিনা পাটায়ার মিনি লাসভেগাস নামেও পরিচিত। ওয়াকিং স্ট্রিটে রয়েছে বিভিন্ন থিমের ওপেন এয়ার বার এবং স্ট্রিপক্লাব। সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়, জীবন্ত থাকে এই রাস্তা।

কোথায় থাকবেন
থাইল্যান্ডের প্রতিটি শহরেই সব রকম বাজেটের অনেক হোটেল রয়েছে। তাই রাত্রিবাসের সমস্যা হবে না। কিন্তু হোটেল বুকিংটা আগে থেকেই সেরে যাওয়া ভাল। সঙ্গে রাখুন হোটেল কনফার্মেশনের প্রিন্ট। কারণ, থাইল্যান্ডে আপনি কোথায় থাকবেন, সেটা ভিসা ইস্যু করার সময় অভিবাসন আধিকারিকরা দেখতে চাইবেন।চাইলে কলকাতা থেকেই থাইল্যান্ডের কোনও ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে বাড়তি কোনও ঝক্কি পোহাতে হবে না। তিনিই থাকা-খাওয়ার সব বন্দোবস্ত করে রাখবেন।

সূত্রঃ এবেলা

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।