ব্রেকিং নিউজ :
September 12, 2017

রোহিঙ্গা সংকটের নেপথ্য কারণ

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতনে গ্রামের পর গ্রাম লোকশূন্য হয়ে পড়ছে। মিয়ানমারের হায়েনাদের থেকে বাঁচতে রাস্তা, জমি, পাহাড়, জঙ্গল, নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা সাত লাখেরও বেশি। ২৫ আগস্ট থেকে এখন অবধি রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী এসেছে তিন লাখ বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে চাপে আছে বাংলাদেশ সরকার।

রাখাইনের রোহিঙ্গা সংকটে বিভিন্ন বিশ্লেষক জাতিগত সংঘাত কিংবা ধর্মীয় বিদ্বেষকে দায়ী করলেও সংকটের নেপথ্যে বহুমাত্রিক কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন  বিশ্লেষকরা। রাখাইন রাজ্য বঙ্গোপসাগরের খুবই কাছে। ফলে অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক রাষ্ট্র ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে রাখাইনে বিনিয়োগ করেছে। তাদের বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের তাড়িয়ে দেয়ার বিশেষ মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিধনের কারণ খুঁজেছেন রুশ বিশ্লেষক দিমিত্রি মোসিয়াকভ।  তিনি ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ অব দ্য রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেসের সেন্টার ফর সাউথ ইস্ট এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া-ওশেনিয়াবিষয়ক পরিচালক। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়ানকরা রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আরও উসকে দিচ্ছে।

মোসিয়াকভ জানান, রোহিঙ্গা সংকট একটি ত্রিমাত্রিক ঘটনা। প্রথমত, এটি চীনবিরোধী একটি খেলা। কারণ আরাকানে (রাখাইন রাজ্য) চীনের বিশাল বিনিয়োগ আছে। দ্বিতীয়ত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মুসলিম উগ্রপন্থা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমনটি করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, আসিয়ানের মধ্যে অনৈক্য (মিয়ানমার এবং মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনৈক্য) তৈরি করার প্রচেষ্টা এটি।

মোসিয়াকভের তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে শতাব্দী ধরে চলা এ সংঘাতকে ব্যবহার করেছে আন্তর্জাতিক বড় বড় শক্তিগুলো। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় হাউড্রোকার্বনের বিপুল রিজার্ভের দিকে দৃষ্টি রয়েছে তাদের। মোসিয়াকভ বলেন, ‘মিয়ানমারের সাবেক সেনাশাসক থান শুয়ের নামে বহুসংখ্যক গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। পাশাপাশি আরাকানের উপকূলীয় অঞ্চলে হাউড্রোকার্বন রয়েছে বলে অনেকটাই নিশ্চিত।’

২০০৪ সালে রাখাইনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপরেই  সেখানে দৃষ্টি পড়ে চীনের। সেখানে ২০১৩ সালে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শেষ করে দেশটি। এই পাইপলাইন মিয়ানমারের বন্দর শহর কিয়াউকফিউকে চীনের ইউনান প্রদেশের শহর কুনমিংকে যুক্ত করেছে। তেলের এ পাইপলাইনটির মাধ্যমে বেইজিং মালাক্কা প্রণালি হয়ে মিডল ইস্টার্ন ও আফ্রিকান তেল সরবরাহের সুযোগ পায় বেইজিং।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।