ব্রেকিং নিউজ :
September 13, 2017

বিশ্বে মানবিকতার প্রতীক এখন বাংলাদেশ

রাখাইনের রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত চার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। মিয়ানমারের হায়েনাদের থেকে বাঁচতে রাস্তা, জমি, পাহাড়, জঙ্গল, নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা। সম্প্রতি সংকটের পর রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী এসেছে প্রায় চার লাখ। এর আগে থেকেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ছিল পাঁচ লাখ। রোহিঙ্গাদের নিয়ে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিধনে চুপ বিশ্ব বিবেক। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি চীন মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। চুপ প্রতিবেশী দেশ ভারত। অনেক দেশ নিন্দা জানিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে মাত্র। কিন্তু মানবতার দেশ বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো করে চুপ থাকতে পারেনি।

নানাবিধ অর্থনৈতিক সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তারপরও রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে বিশ্বে বিরল সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবিকতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবিকতার প্রশ্নে বাংলাদেশ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, সেটি এশিয়ায় তো বটেই, সারা বিশ্বেই বিরল।

ধর্ষণ, হত্যা, লুণ্ঠন ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফের বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত ও নারকীয় তাণ্ডব, নির্বিচারে হত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের বর্ণনা শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি। নির্যাতিত নারী ও শিশুদের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাদের সবধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন।

সেখানে এক জনসভায় তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন নিজদেশে ফেরত যেতে না পারবে ততদিন বাংলাদেশ থাকবে- জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ। সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি। সেখানে আরও ২/৫/৭ লাখ মানুষকেও খেতে দিতে পারবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমাদের মানুষদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মানুষ উপায় না পেয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। তাই আমাদের যতটুকু সামর্থ আছে সাহায্য করছি। এ বিষয়ে আমরা কমিটিও করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের খাদ্য, আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আমি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি। তবে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের যা করার দরকার আমরা সেটি করবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে যা ঘটছে, সেটি ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’। তিনি বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এ ঘটনা দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। মানুষ মানুষের মতো বাঁচবে। মানুষের কেন এত কষ্ট!’ ‘তারা (মিয়ানমার) আইন পরিবর্তন করে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করছে। আইন পরিবর্তন করে কেন এই ঘটনার সৃষ্টি করা হল?’- প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যারা প্রকৃত দোষী তাদের খুঁজে বের করুন। এক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য করা দরকার, আমরা তা করব।’

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/টিএম

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।