ব্রেকিং নিউজ :
September 28, 2017

কিছু নীতিহীন ইংরেজি শিক্ষকের সাতকাহন

কিছু নীতিহীন ইংরেজি শিক্ষকের সাতকাহন

বলছিলাম কিছু ইংরেজী শিক্ষকের সতাকাহন লিখবো। যদিও আমি একজন শিক্ষক হিসেবে লজ্জিত। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর কুমিল্লা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক এবং প্রধান পরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েও বিনয়ের সাথে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছি। এর প্রধান কারণ হলো উত্তর পত্র মূল্যায়নে আমি যথেষ্ট সময় দিতে পারবো না। আমার কাজের অবহেলার কারণে যদি কোন ছাত্র ছাত্রী ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা আমার বিবেককে দংশন করবে। গৌরচন্দ্রিকাটি একারণে দিলাম যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা না যায় সে দায়িত্ব না নেয়াই ভাল।

(আমি বিনয়ের সাথে বলে রাখছি আমার এ লেখাটি সকল ইংরেজি শিক্ষকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কতিপয় ইংরেজী শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে এ লেখা )

এই সমস্ত ইংরেজী শিক্ষক নিজেদের এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন যে তারা অন্য বিষয়গুলোর শিক্ষকদের শিক্ষকই মনে করেন না।

১। ইস্কুল খুইলাছেরে মাওলা : এস এস সি পরীক্ষার পর থেকে ছাত্র ছাত্রীরা হুমরী খেয়ে পরে এই সমস্ত শিক্ষকের বাসায়। বাসা নয়তো ছোটখাট একটা ক্লাশরুম। প্রতি ব্যাচে ৩০-৪০ জন। ইস্কুল খুইলাছেরে মাওলা ইস্কুল খুইলাছে। এই স্কুলে যে একবার নাম লেখাবে তার আর নিস্তার নেই। অক্টোপাস ধরলে ছাড়ে কিন্তু এই সমস্ত ব্যবসায়ী ইংরেজী শিক্ষক ধরলে আর ছাড়াছাড়ি নাই। প্রয়োজনে ছাত্র ছাত্রীর মা বাবাকেও ইংরেজী শিখিয়ে দেয়া হবে।

২। বনিজ্যে বসতি লক্ষ্মী : প্রাইভেটের নাম যে বানিজ্যের পসরা বসানো হয় তার থেকে নিস্তার মেলা দায়। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যারা প্রাইভেট পরে তার অধিকাংশই ফেল করে। এর কারণও আছে যে উদ্দেশ্যে প্রাইভেট পড়তে যায় তার সিকিভাগও ছাত্র ছাত্রীরা পায় না। হাজিরা দাও টাকা দাও। প্রাইভেটের নামে টাকা তৈরীর কারখানা।

৩। অর্থ জমা দেয়ার বুথ : আমি এমন একজন ইংরেজি শিক্ষককে জানি যিনি মাসের একদিন বরাদ্দ রাখেন ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য। প্রথম কারো নজরে আসলে বুঝবে হয়তো ছাত্র ছাত্রীরা ব্যাংকে টাকা জমা দিচ্ছে। লাইন একেবারে রাস্তা পর্যন্ত। অনেক সময় গিন্নি এ কাজে সহযোগিতা করেন।

৪।ফ্ল্যাক্সি প্রাইভেট: আমি এমন ধরণের একজন শিক্ষককে জানি যিনি স্টেশনে নাই কিন্তু তাই বলে কি প্রাইভেট বন্ধ থাকবে ? মোটেই না। শিক্ষক নাই তাতে কি হয়েছে শিক্ষকের গিন্নি তো আছে। শিক্ষক ঢাকা বসে নির্দেশনা দেন এই ব্যাচকে আজ এই নোটটা দাও , ঐ ব্যাচকে ঐ নোটটা দাও। যাকে বলে ফ্ল্যাক্সি প্রাইভেট।

৫। বিনোদন : মাঝে মাঝে প্রাইভেটের ছাত্রদের বিনোদন না দিলে কি চলে ? ব্যাচের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে একটু নৌভ্রমন , একটু বেড়াতে যাওয়া , একটু খাওয়া দাওয়া। অর্থের যোগানদাতা ছাত্র ছাত্রী। সুপারগ্লু দিয়ে ছাত্র ছাত্রী ধরে রাখতে হবো তো।

৬। কথপোকথন : চল হাসপাতালে যাই। কেন কি কারণে যাবি ? —- স্যারের বউর ডেলিভারি হয়েছে । ভাবিকে দেখতে যাই। আমরা দেখে আসছি তোরা যা। স্যারের বউর জন্য একটা উপহার কিনে নিতে হবে।

৭। মন খারাপের গল্প : স্যার আজ আপনার কি মন খারাপ ? কি হইছে। স্যার বলছেন বাড়ীর কাজ ধরেছি , জামিটাও কিনতে হবে। টাকার দরকার। তোমরা কি আমাকে ১ বছরের টাকা এডভান্স দিতে পারবে ? পারবো স্যার আব্বা আম্মাকে বলে নিয়ে আসবো। স্যারের মুখে তৃপ্তির হাসি। গিন্নি শুনছ টাকার সংস্থান হয়ে গেছে। আর কোন চিন্তা নাই।

৮। কলেজ পার্টটাইম প্রাইভেট ফুলটাইম : এ সমস্ত ইংরেজী শিক্ষককে বেলা ১২টার পর আর কলেজে পাবেন না। কলেজে যতেই কাজ থাকুক বাসায় লক্ষ্মী বসে আছে। দ্রতি বসায় যাও।

৯। ফ্ল্যাক্সি খাতা দেখানো : অধিকাংশ ইংরেজী শিক্ষকরা উত্তর পত্র নিজেরা না দেখে ছাত্র ছাত্রী , বউ , আত্মীয় সজনকে দিয়ে দেখিয়ে থাকে।

১০। আশার বানী : পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন বলে দেয়া , উত্তর পত্র মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্ব করা এই সমস্ত শিক্ষকদের কাজ।

১১। তোমার আব্বাতো বিদেশ থাকে আসার সময় আমার জন্য একটা পারফিউম , তোমার ভাবির জন্য একটা চেইন , মেয়ের জন্য একটা মোবাইল নিয়ে আসতে বলো।

অনুরোধ :আরে বাপু শিক্ষকতা না করে কালোবাজারি করলেইতো পারো।

লেখক, রতন কুমার মজুমদার, চাঁদপুর পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। 

ফেইসবুক পোস্ট 

 

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।