ব্রেকিং নিউজ :
October 1, 2017

কেন স্বাধীনতা চাইছে স্পেনের সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল?

ভোটের পক্ষে রাস্তায় নেমে এসেছেন কাতালানরা। কেন্দ্রীয় সরকারের বাধার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, স্পেনের ক্ষুদ্র একটি অংশ হয়েও তারা কেন স্বাধীনতা চাইছে? আর এর সম্ভাবনাই-বা কতোটা? কিভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো? কাতালোনিয়া স্পেনের অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এর লিখিত ইতিহাস এক হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। স্পেনের গৃহযুদ্ধের আগে এই অঞ্চলের ছিলো বড়ো রকমের স্বায়ত্তশাসন। কিন্তু ১৯৩৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর স্বৈরশাসনের সময় কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসনকে নানা ভাবে খর্ব করা হয়।

কিন্তু ফ্রাঙ্কোর মৃত্যুর পর সেখানকার জাতীয়তাবাদ আবার শক্তিশালী হতে শুরু করে। এবং তীব্র আন্দোলন ও দাবির মুখে ওই অঞ্চলকে স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আর সেটা করা হয় ১৯৭৮ সালের সংবিধানের আওতায়। স্পেনের সংসদে ২০০৬ সালে একটি আইন প্রণয়ন করা হয় যেখানে কাতালোনিয়াকে আরো কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়। কাতালেনিয়াকে উল্লেখ করা হয় একটি ‘জাতি’ হিসেবে। কিন্তু সংবিধানে কাতালোনিয়াকে দেওয়া এরকম অনেক ক্ষমতা পরে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত বাতিল করে দেয় যা কাতালোনিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

স্বায়ত্তশাসন কাটছাঁট করার ফলে ক্ষুব্ধ কাতালানরা, এর সাথে যুক্ত হয় বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দা, সরকারি খরচ কমানো, ২০১৪ সালে অনানুষ্ঠানিক-ভাবে স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গণভোটের আয়োজন করে। তখন ভোটার ছিলো ৫৪ লাখ। ভোটে অংশ নেয় ২০ লাখেরও বেশি ভোটার। এবং কর্মকর্তারা ঘোষণা করেন যে ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোটার স্পেন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেন। অর্থাৎ জনরায় হলো কাতালোনিয়া চায় স্বাধীনতা।

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ২০১৫ সালে কাতালোনিয়ার নির্বাচনে জয়লাভ করে। তখন তারা এমন একটি গণভোট আয়োজনের কথা বলে যার আইনি বৈধতা থাকবে এবং সেটা মানতে কেন্দ্রীয় সরকার বাধ্য হবে। স্পেনের সংবিধানকে লঙ্ঘন করেই তারা এই ঘোষণা দেয়। কারণ সংবিধানে বলা আছে, স্পেনকে ভাগ করা যাবে না।

কাতালান পার্লামেন্টে গণভোটের প্রসঙ্গে একটি আইন তৈরি করা হয় এবছরের সেপ্টেম্বর মাসে। বিতর্কিত এই আইনটিতে ভোটের ফলাফলকে মানতে বাধ্যতামূলক করা হয় এবং বলা হয় কাতালোনিয়ার নির্বাচন কমিশন গণভোটের ফলাফল করার দু’দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে কাতালোনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। কাতালান প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, অন্য কোন আদালত বা রাজনৈতিক শক্তি তার সরকারকে ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করতে পারবে না।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাখয় এই ভোটকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেন। বলেন, “আমি অত্যন্ত নরম সুরো কিন্তু কঠোর করে বলতে চাই কোন গণভোট হবে না। এটা হবে না।” প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত কাতালোনিয়ার ওই আইনটিকে বাতিল করে দেয়। এতে কাতালানরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এবং তারপর থেকেই স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকার কাতালোনিয়ার অর্থনীতি ও পুলিশের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে। গণভোটের আয়োজনকারী কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে এক কোটি ব্যালট পেপার এবং যেসব ওয়েবসাইটে এই গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন, কোন না কোন উপায়ে, কাতালোনিয়ার কোথাও না কোথাও এই গণভোট ঠিকই অনুষ্ঠিত হবে, যদিও এই ভোট বন্ধ করার জন্যে বাইরে থেকে সেখানে আরো ৪,০০০ পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সেজন্যে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ভোট কেন্দ্রগুলো কোথায় কোথায় সেটা বলে দেওয়া হচ্ছে। তবে ভোট কতোটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে সেটা বলা কঠিন।

স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি সমর্থন আছে এরকম একটি রাজনৈতিক দল, যারা ২০১৫ সালে কাতালোনিয়ার নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, তারা এই গণভোট বর্জন করছে। ফলে না ভোট পড়লেও তার সংখ্যা হবে খুবই কম এবং সেটা প্রতিনিধিত্বশীল হবে না। তবে ভোটের হার যদি খুব বেশি হয় তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষেও এই জনরায়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া অতোটা সহজ কাজ হবে না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।