ব্রেকিং নিউজ :
November 30, 2017

৩২তম সদস্য দেশ হিসেবে বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে বাংলাদেশ

৫৭ বছর পর দেশবাসীর স্বপ্ন পূরণ হলো। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। এখন থেকে রূপপুরের আলোয় আলোকিত হবে দেশ। সংশ্লিষ্টরা  দাবি করছেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড গড়বে প্রকল্পটি। মূল স্থাপনার কাজ শুরুর ৬৮ মাসের মধ্যেই এখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে ৩২তম সদস্য দেশ হিসেবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে ষষ্ঠ এবং সার্কের তৃতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দেশের তালিকায় ঢুকল।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পারমাণবিক চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজ হাতে ঢালাই দিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক সাজানো হয় মনোরম সাজে। প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সূত্র মতে, স্বাধীনতার আগে রূপপুরে পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সঙ্গে চুক্তি হয় রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণব্যয়ের ৯০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দেবে রাশিয়া।

রূপপুরে ১২০০ করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ১ হাজার ৬০ একর জমির উপর এ বিদ্যু‍ৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। ৫০ বছর আয়ুর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী ইউরিক মিখাইল খোসলেভ প্রকল্পের প্রযুক্তি সম্পর্কে বলেন, “এ প্রকল্পে থ্রি-প্লাস রিঅ্যাক্টর ব্যবহৃত হবে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও আধুনিক রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি, যা শুধু রাশিয়ার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রয়েছে। রূপপুরেই হবে এর দ্বিতীয় ব্যবহার।”

নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, “রূপপুর প্রকল্পে আট মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় রিঅ্যাক্টর ঘিরে রয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। রাশিয়ান ফেডারেশনের নির্মিত প্রযুক্তির অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেমের কারণে এ কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।”

প্রসঙ্গত, বর্তমানে পৃথিবীর ৩১টি দেশে ৪৫০টি পারমাণবিক বিদ্যুতের ইউনিট চলমান আছে। এগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশ ছাড়া আরও ৬০টি ইউনিট বিভিন্ন দেশে নির্মাণাধীন রয়েছে, যার মোট ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।