ব্রেকিং নিউজ :
December 1, 2017

ঘুমের মধ্যে উচ্চস্থান থেকে পড়ে যাওয়া ও বোবায় ধরার রহস্য কী?

আপনি সারাদিন কঠোর পরিশ্রম শেষে ঘুমাতে গেলেন, কিন্তু হঠাৎ অনুভব করলেন উপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন। কিংবা আরামের ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হলো কেও একজন আপনার বুকের উপর চেপে বসে আছে।

আপনি নড়াচড়া করতে পারছেন না, গলা দিয়ে স্বর ও বের হচ্ছেনা। কিছুক্ষণ পর ঘেমে নেয়ে আসলেন আপনি, আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠলো সবকিছু। এই ঘটনাকে অনেকেই জ্বিনের আছর বলে আখ্যায়িত করেন! আবার অনেকে একে বোবায় ধরা বলে থাকেন। কিন্তু এই অস্বাভাবিক ঘটনার সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার এই অনুভূতি কে বলা হয় হাইপোনিক জার্ক। আসলে মস্তিষ্ক আর শরীরের মধ্যে এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টির ফলেই এই ঘটনার উৎপত্তি। ঘুমানোর সাথে সাথেই আমাদের মাংসপেশী গুলো শিথিল হওয়া শুরু করে।

তবে অনেক সময় এই ঘটনা শুরুর সাথে সাথেই মস্তিষ্ক সেটা বুঝে উঠতে পারে না। হঠাৎ করে শরীর ছেড়ে দেবার এই ঘটনাকে সে উপর থেকে নিচে যাওয়া ভেবে ভুল করে। সুতরাং উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার এই বিপদ মোকাবেলা করার জন্য মস্তিষ্কের মাতব্বরীতে হাত-পা শক্ত হয়ে যায় আর হঠাৎ ঝাঁকি দিয়ে আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠি।

আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন যে প্রচণ্ড কাজ বা পড়াশুনার চাপে থাকলে এই ঘটনা বেশি ঘটে। এর কারণ হলো এসব চিন্তার মধ্যে থাকলে দেখা যায় আমরা ঘুমানোর সময়ও সেগুলো ভাবতে ভাবতেই ঘুমাই। যার ফলে ব্রেন ঐ দিকে ব্যস্ত থাকে আর আপনাকে যে ঘুমের পর মাংসপেশি শিথীল হয়ে যাওয়া যে স্বাভাবিক এই কথা বেমালুম ভুলে যায়। তাই সাধারণ এই ঘটনাকে উপর থেকে পড়ে যাবার দূর্ঘটনা ভেবে ভুল করে। এতো গেল এক ধরনের সমস্যা।

কিন্তু বোবায় ধরা আসলে কী? প্রথমে বলি এর নামকরণ বৃত্তান্ত। প্রাচীনকালে মানুষের ধারণা ছিল বোবা নামে এক ধরনের ভূত ঘুমের মধ্যে মানুষের বুকে চেপে বসে সাময়িক ভাবে তাকে বোবা করে দেয়। তাই কালক্রমে এই ঘটনাকে বোবায় ধরা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণভাবে একে স্লিপ প্যারালাইসিস বলা হয়।

আমাদের ঘুমের দুইটি পর্যায় আছে। আরইএম (র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) আর নন আরইএম (নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায়। এই দুই পর্যায়ের মধ্যে যদি কখনও আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায় তাহলে আমাদের জেগে থাকা সম্পর্কে মস্তিষ্ক অবগত থাকে না।

আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন এই রকম অবস্থা স্বপ্ন দেখতে দেখতেই বেশি হয়, অর্থাৎ হঠাৎ করে স্বপ্ন ভেঙে যাবার পর এরকম ঘটনার সৃষ্টি হয় বেশিরভাগ সময়ে। আরইএম পর্যায়ে আমরা মূলত স্বপ্ন দেখি আর হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা ননআরইএম পর্যায় পরিভ্রমণ করে তারপর জেগে উঠি।

অর্থাৎ গাঢ় ঘুম আগে হালকা হয় তারপর আমরা জাগি। কিন্তু কখনও কখনও মস্তিষ্ক এত দ্রুত ব্যপারটা ধরতে পারে না। তাই সে ভেবে বসে আমরা এখনও ঘুমিয়েই আছি। তাই শরীর ঘুমের মতোনই শিথিল থাকে। আমরা যে জেগে আছি এটা জানতে তার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।