ব্রেকিং নিউজ :
November 3, 2015

চাকরির বাজার, কেন ভালো নয় বাংলাদেশে?

2145এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। ক্রমশঃ কঠিন হয়ে পড়ছে চাকরির বাজার। অর্থনীতির ভঙ্গুরদশা, যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব, নিয়োগ পক্রিয়ায় দীর্ঘসুত্রিতা, অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপকতা ও শ্রম আইনের অবজ্ঞা- সৃষ্টি করেছে এই পরিস্থিতি। এতে হতাশা আর ক্ষোভ বাড়ছে বেকার এবং কর্মজীবিদের মনে। শিক্ষানীতি ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে সরকার। কর্মস্থল নিয়ে সিকিভাগ তদারকিও চোখে পড়ছে না। ফলে উত্তোরণ ঘটছে না চলমান অবস্থান থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশে চাকরির বাজার ও কর্মস্থলের ভগ্নাদশার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশ পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- চাকরির জন্য বিশ্বের খারাপ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ নম্বরে। ১৫৮ দেশের কর্মজীবি মানুষ এই গবেষণা জরীপে অংশ নেয়। প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশের ২ভাগ মানুষ নিজের চাকরি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। মোটের উপর তুষ্ঠ ১০ভাগ কর্মজীবি। গ্যালাপ জানাচ্ছে, চাকরির ভালো-মন্দ নির্ভর করে অর্থনীতির উপর। অর্থনীতি শক্তিশালী হলে চাকরি ভালো হয়। এছাড়া গুনগত শিক্ষা, দূর্নীতির মাত্রা এবং আইনের শাসনের উপরও ভালো চাকরি নির্ভর করে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার লক্ষ উচ্চশিক্ষিত নারী-পুরষ কর্মবাজারে পা দিচ্ছে। সরকারি ও বে-সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাত্ক ও স্নাতকত্তোর ডিগ্রী নিয়েছে এরা। এর মধ্যে ৪৫ ভাগের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বাঁকী ৫৫ ভাগই থাকছে বেকার। বেকারের এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ ভাগ। বাংলাদেশের ৪৭ ভাগ স্নাতক ডিগ্রীধারীই বেকার। একথা বলছে বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিষ্ট। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) দাবি করছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ ভাগই বেকার। জানাচ্ছে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে- এমন ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। বেকার বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ৬ কোটির উপরে। এই আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট সংস্থারগুলোর।

দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান হওয়ার পরও কেন বেকারের সংখ্যা বাড়ছে? বিশ্লেষকরা বলছেন- যুগোপযোগী এবং গুনগত শিক্ষার অভাবই এর অন্যতম কারণ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১০-১৫ বছরের ব্যবধানে শিক্ষা কার্যক্রমের হালনাগাদ করা হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও দেশে শিক্ষাকার্যমে তেমনটা হালনাগাদ করা হয়নি। প্রাথমিকস্তরে কিছুটা হালনাগাদ করা হয়েছে। এই হালনাগাদ জনপ্রিয় দুই নেতার ইতিহাস পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো পড়ানো হচ্ছে বিদেশিদের বই। এসব বই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটা সময় উপযোগী- ভাববার সময় এসেছে। তাছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বর্তমানে মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটছে না। গত কয়েক বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুগোপযোগী ও গুনগতমানের শিক্ষার অভাবে চাকরির প্রতিযোগীতায় টিকতে পারছে না চাকরি প্রত্যাশীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রয়েছে তদবির ও দূর্নীতি। একারণে অনেক মেধাবী ভাল চাকরি পাচ্ছে না। অনেকই থাকছে বেকার। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসুত্রিতাও বেকারত্ব বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২৫-২৮ বছরের আগে স্নাতকত্তোর শেষ করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসুত্রিকার কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যেই চাকরির বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা বেকারত্বের অভিশাপ ঘাড়ে নিয়ে মানবেতর দিনানিপাত করছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো আরো জানাচ্ছে, দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ৫ কোটি ৪১ লাখ জন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে ৮৭.৫ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। বাঁকী সাড়ে ১২ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্যে মধ্যে পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম আইন যথাযথাভাবে অনুসরণ করছে না। ইচ্ছেমতো কর্মী ছাটাই করছে বিনা নোটিশে। বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে করা হচ্ছে চরম তালবাহনা। দেওয়া হচ্ছে না উপযুক্ত পারিশ্রমিক। রয়েছে কর্মস্থলের যথাপোযুক্ত পরিবেশ। বেশিরভাগ কর্মজীবিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে। অথচ কর্মপরিবেশ, কর্মী ছাঁটাই ও পারিশ্রমিক পরিশোধে শ্রম আইনে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানাচ্ছে, এসব সঙ্কট কাটিয়ে উঠার জন্য সংশ্লিস্টরা পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ ঘটবে।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এমআই

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।