ব্রেকিং নিউজ :
January 11, 2016

দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন, দোলাচলে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল  

download

পৌর নির্বাচন শেষ হতে না হতেই নির্বাচন কমিশনের দোয়ারে কড়া নাড়ছে প্রান্তিক পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আগামী বছর মার্চ থেকে দেশজুড়ে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে দেশের সাড়ে চার হাজার ইউপি’র হালনাগাদ তালিকা সংগ্রহ করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের ১ অক্টোবর ৪ হাজার ৫৫৩টি  ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা, শপথ ও  পরিষদের প্রথম সভার তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য কমিশনে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, পৌর নির্বাচনের পর আমাদের মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট করতে হবে। এজন্য ইসি সচিবালয়কে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মেয়াদ মার্চ থেকে জুলাই মাসের মধ্যে পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে জানুয়ারি মাসের দিকেই তফসিলও ঘোষণা করা যেতে পারে বলে মতামত দেন তিনি।

ইউপি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হলেও প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনে আগ্রহী। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে এখনো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন কিংবা এই নিয়ম থেকে সরে আসার বিষয়টি পাকা সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যায়নি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপি নির্বাচন তৃণমূল পর্যায়ের। এই নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হলে তার ফল ইতিবাচক না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রান্তিক পর্যায়ে দলীয় ব্যানারে ইউপি নির্বাচন নির্বাচনী পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হবে। এতে করে সামাজিক বন্ধন নষ্ট হবে। ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের জন্য বিষয়টি আরো গুরুত্বর। সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল সংখ্যায় বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে হয়েছে। যা পৌর নির্বাচনে ভোটের ফলাফলেও প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই দলীয় প্রতীকে পৌরসভা পর্যন্ত রাখলেই উত্তম। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয় করাই ভালো।

তবে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগ যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং আশাবাদী। প্রথমবারের মতো দলীয় ব্যানারে পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের সাফল্য এই ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশ্বাস, দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন তৃনমূল পর্যায়ে দলকে আরো সুসংগঠিত করবে।

তবে, দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ায় এই বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে বিএনপি’কে। আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও দলীয় ভিত্তিতে করার পক্ষেই অবস্থান এই রাজনৈতিক দলের। দলটির সিনিয়র নেতাকর্মীদের মতে, পৌর নির্বাচনের পরাজয় হলেও এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। একই কারণে যদি প্রান্তিক পর্যায়ের ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়, তবে দলটি আরো সুসংগঠিত হতে পারবে। কিন্তু দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি’কেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ধকল সামলাতে হবে। নিজদের শরীক দল নিয়েও বিপাকে পড়তে হতে পারে এই দলকে। উল্লেখ্য, জামায়তকে বাদেই গত পৌর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে দলটি। কিন্তু ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই শরীক দলকে নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দলটি।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, আগের নির্বাচনের পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে (মেয়াদ শেষের আগের ১৮০ দিন) নির্বাচন করতে হবে। পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ থাকবে পরিষদের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর।

জানা গেছে, নতুন ভোটাররা ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচনে ভোট না দিতে পারলেও ইউপি নির্বাচনে তাদের সেই সুযোগ হতে পারে। ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর হালনাগাদ তালিকা দিয়েই এ নির্বাচন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

দেশে এ পর্যন্ত আটটি  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩ এবং ২০১১) হয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

মোহাম্মাদ মামুনুর রহমান

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।