ব্রেকিং নিউজ :
February 26, 2016

পিরামিড এবং মমি রহস্যঃ কেন এবং কীভাবে তৈরি পিরামিড?

file h

সারা বিশ্বের মানুষের আকর্ষণের এক বিশাল কেন্দ্রবিন্দু মিশরের পিরামিডগুলো। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৩০ অব্দের আশেপাশে মূলত এদের সৃষ্টি। শুনে অবাক হবেন যে সবথেকে বড় পিরামিডটির উচ্চতা প্রায় ৫০০ ফুট এবং প্রায় ১৩ একর জায়গা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে ৫০০ ফুট উচু এই পিরামিডটি।

অনেকদিন পর্যন্ত পিরামিডের তৈরি প্রক্রিয়া রহস্যের আড়ালে থাকলেও গবেষকদের কাছে এখন তা বেশ পরিষ্কার। আসওয়ান অপেক্ষা প্রায় ৬০০ মাইল দূরে থেকে পিরামিড তৈরির পাথর নিয়ে আসা হত গিজায়।

সম্ভবত র‍্যাফট এ করে বর্ষাকালে নিয়ে আসা হত বৃহৎ আকৃতির এই পাথর। পিরামিডের ভিত্তি প্রস্তুত হবার সাথে সাথেই গাছের গুড়িতে টেনে আনা প্রস্তরগুলো দিয়ে পিরামিডের উপরের অংশ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি শুরু হতো। প্রথমে ভিত্তির সমান এর পর আস্তে আস্তে কম এলাকা দখল করে উপরে ওঠা শুরু করতো পিরামিড।

কীভাবে এই ভারী ব্লকগুলো উপরে ওঠানো হতো তা নিয়ে কয়েকটা ব্যখ্যা আছে। মাটি অথবা কাঠের সাহায্যে পিরামিডের এক পাশে একটি সিড়ির মত তৈরী করে গাছের গুড়ই দিয়েই হয়তো টেনে উপরে ওঠানো হতো এই ব্লকগুলোকে। কিন্তু এভাবে করে এতো পরিমাণে ব্লক উপরে তুলতে কী পরিমাণে শ্রমিককে কাজে লাগতে হতো ভাবা যায়! হাজার হাজার শ্রমিককে এজন্য যুগ যুগ ধরে টানা পরিশ্রম করে যেতে হতো।

jj

অবশ্যই ইতিহাসবিদদের কাছে কোন ছবি বা নকশা নেই পিরামিড তৈরির। আমরা পিরামিড তৈরি সম্পর্কে যতটুকু যা জানতে পারি তা পুরোটাই পুরাতত্ত্ববিদদের গবেষণা থেকে। ইজিপ্ট এর প্রধান পুরাতত্ত্ববিদের মতে পিরামিড দাসদের দিয়ে নয় বরং অর্থ খরচ করে রাখা শ্রমিকদের দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। এই গবেষণালব্ধ ফলাফল অনেক সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়, যেমন এরিক ভন নামে একজন ব্যখ্যা দিয়েছিলেন যে পিরামিড বোধহয় মনুষ্যনির্মিত নয়, এলিয়েন নির্মিত কোন স্মৃতিস্তম্ভ।

প্রাচীনকালের মানুষ যে বুদ্ধিমান ছিলো না এই ধারণা দূর করতে এক পিরামিডই যথেষ্ট। নিজেদের বিদ্যা এবং বুদ্ধি দিয়ে অসাধারণ এক স্থাপনা তৈরি করেছিলেন তারা, যা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে হাজার বছর পরেও।

মিশরের রাজাদের বলা হত ফেরো বা ফারাও ।এটা ছিল তাদের উপাধি। মিশরের প্রজাগন তাদের ফেরো বা ফারাও দের দেবতাজ্ঞানে পূজা করত । মিশরের ফারাওদের তেমনি ইচ্ছা ছিল তাদের নশ্বর দেহ যেন মৃত্যু পরবর্তী সময়ে অবিনশ্বর থাকে। এ ব্যাপারে তারা এক আশ্চর্য পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল । যেই পদ্ধতির মাধ্যমে মৃতদেহকে অনেকদিন অবিকৃত অবস্থায় করে রাখা যায় । এভাবে অবিকৃত অবস্থায় করে রাখাকে বলা হত মমি। হয়ত তারা বিশ্বাস করতেন পরবরতীতে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব তাদেরকে আবার। পিরামিড নামক এই স্থানগুলোর তলদেশে মমিগুলোকে রাখা হতো।

পিরামিড ছিল মূলত সমাধি মন্দির । তৃতীয় রাজবংশের প্রথম ফেরো জোসেফের জন্য প্রথম পিরামিড নির্মিত হয়। মিশরীয়রা মনে করত যতদিন রাজাদের দেহ রক্ষা করা যাবে ততদিন তারা স্বর্গে বাস করবে। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এখনো তাদের অনেক রাজা স্বর্গে আছেন।

ছবিসূত্রঃ history.com

ফাহমিদা ফারজানা অনন্যা

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।