ব্রেকিং নিউজ :
March 25, 2016

আর্থিক খাতে জালিয়াতি: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা

Fighting-Online-Banking-Fraud-Small-1024x682

দেশের আর্থিক খাতে একের পর এক অর্থ লোপাটের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হলমার্ক কিংবা বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যাংক জালিয়াতির মত নানা অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় বেড়েই চলেছে এ ধরণের অপকর্ম।

এ ধরণের ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও সংস্কার জরুরি বলেও মনে করেন সাবেক ব্যাংকাররা। মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব খুলে অর্থ লোপাট থেকে শুরু করে গ্রাহকের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে এটিএম কার্ড জালিয়াতি। দেশের আর্থিক খাতে একের পর এক ঘটছে এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট হ্যাকের রহস্যের জট খোলার আগেই প্রকাশিত হলো রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে আরও একটি প্রতারণার ঘটনায় কোটি টাকা লোপাটের তথ্য। আর এসব ঘটনায় প্রতিবারই উঠে এসেছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার খবর। তাই ব্যাংকারদের কর্মক্ষেত্রে নৈতিকতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে তেমন দায়ী করা হচ্ছে ব্যাংক ব্যবস্থায় প্রতারণা ঠেকানোর পদ্ধতি ও অবকাঠামো নিয়ে।

দুর্লভ অবকাঠামো আর বিচারের দীর্ঘ সূতীটা বা বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরণের ঘটনা বারবার ঘটছে বলেও মন্তব্য বিশ্লেষকদের। লিডার শিপে যারা আছে তাদের মাঝেও কিন্তু জবাব দিহিতা, সততার অভাব আছে। যারা দোষী তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে না। আইনের ফাঁক-ফোকোর দিয়ে দোষীরা বেরিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণে ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার দ্রুত সমাপ্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং খাত গড়ার পরামর্শ দিলেন বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলোর কাজ হলো দেশের মানুষের অর্থ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেয়া। আর সে ভরসায়ই মানুষ ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখে। যে কোনো মাধ্যমেই হোক না কেন, গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ খোয়া গেলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপরই গিয়ে বর্তায়। এটা স্পষ্ট যে, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহকের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। জালিয়াত চক্র যেভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। দেশের ব্যাংকগুলোয় অর্থের নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দিষ্ট গাইডলাইন দ্রুত প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে উদ্যোগী হতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে। তাতে করে এ ধরনের অপরাধ কমে আসতে বাধ্য। সর্বোপরি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী যদি সার্বিক বিষয় সঠিকভাবে পরিচালিত হয় তবে এটা সত্য যে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব। দেশের ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ কঠোর হোক- এমনটিই তাদের প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এমএম

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।