ব্রেকিং নিউজ :
April 12, 2016

খালেদার দয়ায় ফখরুল মহাসচিব- জাফরুল্লাহ চৌধুরী

d6cef921eb75fcaee3c7ae790d470cf6বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দয়াতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। মির্জা ফখরুল তার কর্মের যথাযোগ্য সম্মান পাননি বলেও দাবি করেন বিএনপির এ পরামর্শক ও সমালোচক।

সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে ‘আমার দেশ পরিবার’ আয়োজিত এক প্রতিবাদী আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কারাবন্দিত্বের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এ প্রতিবাদী সভার আয়োজন করা হয়।

এসময় বিএনপির নতুন মহাসচিব মনোনীত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই জাতি-দেশ ও আমাদের কী দুর্ভাগ্য, একজন রাজনীতিবিদ (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) তার কর্মের যথাযোগ্য সম্মান পেলেন না। এক ব্যক্তির (খালেদা জিয়া) দয়াতে (ফখরুলকে) জেনারেল সেক্রেটারি (মহাসচিব) হতে হলো। এর কারণ, আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলছি, সেই গণতন্ত্র তার (খালেদা) পার্টিতে নেই। পার্টিতে যদি গণতন্ত্র থাকতো, উনি (ফখরুল) নির্বাচিত মহাসচিব হতেন। উনি যদি নির্বাচিত হতেন, তাতে তো খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যও পূরণ হতো। কিন্তু সেক্ষেত্রে তফাৎটা কী হতো, উনার (ফখরুল) সাহসটা ভিন্ন হতো। উনি আওয়াজ করে কথা বলতে পারতেন। যেটি দলের জন্য ভাল হতো।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে বিএনপির মহাসচিব পদে নির্বাচন হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিরাপদে নির্বাচিত হতেন। তার বিপক্ষে দুই-চারজন দাঁড়ালেও তাতে কোনো ক্ষতি হতো না। ওইটাই গণতন্ত্র। কাউন্সিলরা জানে, কে দলের জন্য কাজ করেছে আর কে কাজ করেনি। কিন্তু ওই প্রক্রিয়ায় তিনি নির্বাচিত হলেন না। ফলে এখনো তার (ফখরুল) মনে দ্বিধা আছে, আমি এটা করব, নেত্রী কী মনে করবেন? আমি কি যাব না যাব না (দলের কোনো কাজে কোথাও)? অথচ তার এখন মূল করণীয় হলো সংগঠন গুছানো। মিটিংয়ে আসা, প্রধান অতিথি হওয়ার কোনো দরকার নেই।’

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুলের করণীয় প্রসঙ্গে দলটির পরামর্শক ও সমালোচক এ বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের এখন মূল কাজ হচ্ছে, বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা এবং সে জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। চট্টগ্রাম থেকে এ সফর শুরু করতে হবে। মাসের ১৫ দিন অন্তত তাকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাটাতে হবে। তাদের মতামত নিতে হবে। তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনতে হবে। সংগঠনে কোথায় সমস্যা আছে, সেটা চিহ্নিত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হাই কমান্ডের নির্দেশে আন্দোলনে রাস্তায় নামবে।’

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘একটি দেশে জঙ্গিবাদ কারো কাম্য নয়। কিন্তু জঙ্গিবাদের নামে একটা সাধারণ ছেলেকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করে দেয়া, এটা ঠিক না। অথচ, গুলি করার জন্য তো ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি লাগে। এসব বিষয়গুলোতে বিএনপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তারা কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন চাইছে? তাহলেই বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফলতা আসবে।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন প্রধান অতিথির আসনে বসা মির্জা ফখরুল ইসলাম মনোযোগ সহকারে তার কথা শুনছিলেন। এর আগে ডা. জাফরুল্লাহ যখন মঞ্চে এসে হাজির হন, তখন মির্জা ফখরুল আসন থেকে উঠে গিয়ে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে বিএনপিপন্থি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।