ব্রেকিং নিউজ :
May 10, 2016

আরও দুই লাখের বেশি হিসাবধারীর নাম প্রকাশ

আরও দুই লাখের বেশি হিসাবধারীর নাম প্রকাশকর ফাঁকি দিয়ে বেনামে বিপুল সম্পদ পাচারের নেপথ্যে থাকা বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের দুই লাখের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (আইসিআইজে)। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায়  দ্বিতীয় দফায় এসব নথি ফাঁস করা হয়। তবে নথিতে কাদের নাম রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

খবর এএফপি ও বিবিসির। এর আগে আইসিআইজের পরিচালক জেরার্ড রাইল বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের কিছু নির্দিষ্ট লোকের নাম প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৭০ জন সাংবাদিক প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে  দেখছেন। এটা বিশাল তথ্যভাণ্ডার। এবার দুই লাখের বেশি অফশোর কম্পানির নাম প্রকাশ করা হবে।  সেখানে কম্পানির নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকবে। কম্পানিগুলোর পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের নামও প্রকাশ করা হবে। অফশোর অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৬২৫ জন কানাডার নাগরিকের নাম রয়েছে।

পানামাভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার কাছে ওই নথিগুলো সংরক্ষিত ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটি কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিত। অজানা সূত্র থেকে জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতংয়ের হাতে আসে ওই নথিগুলো। পত্রিকাটি সেসব নথি বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের জন্য ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইসিআইজেকে দেয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১৫ সাল, প্রায় ৪০ বছরের কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত এসব নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার কিছু অংশ আইসিআইজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ শুরু করেছে।

কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য নিউজিল্যান্ড: নিউজিল্যান্ডকে কর ফাঁকির স্বর্গ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তাঁরা বিশ্বজুড়ে অর্থ স্থানান্তরের চ্যানেল হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে ব্যবহার করে থাকেন। পানামা পেপারস খ্যাত পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল প্রকাশিত রেডিও নিউজিল্যান্ড, টেলিভিশন নিউজিল্যান্ড ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক নিকি হ্যাগারের একটি যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই নিউজিল্যান্ডের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চাপ বাড়ছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জন ফিলিপ কির ওপর। এ নিয়ে গতকাল দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরপরই প্রধানমন্ত্রী জন কি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দাবি করেছেন, নিউজিল্যান্ড কর ফাঁকির স্বর্গ নয়। বিরোধী নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট পার্টি ও লেবার পার্টির নেতারা তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এ বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

পানামা পেপারস নিয়ে ওই যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে নিউজিল্যান্ড সম্পর্কিত ৬১ হাজারেরও বেশি প্রমাণপত্র রয়েছে। রেডিও নিউজিল্যান্ড, টেলিভিশন নিউজিল্যান্ড (টিভিএনজেড) ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক নিকি হ্যাগার এসব নথি বিশ্লেষণ করে যৌথ প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। এতে তুলে ধরা হয়েছে, কিভাবে ধনী ব্যক্তিরা নিউজিল্যান্ডের অফশোর কর ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোসাক ফনসেকা মূলত নিউজিল্যান্ডের আইনি ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। করমুক্ত, গোপনীয়তা রক্ষা এবং আইনি নিরাপত্তার কারণে নিউজিল্যান্ড যে ব্যবসার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত সেই বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। নিউজিল্যান্ডের নিরীক্ষা ফার্ম ‘বেন্টলিজ নিউজিল্যান্ড’-এর পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা রোগার থম্পসন মোসাক ফনসেকার হয়ে কাজ করতেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, থমসন মোসাক ফনসেকার নিউজিল্যান্ডে নিবন্ধিত অফিসেরও পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পানামা পেপারসের চার হাজার ৫০০ নথিতেও থম্পসনের নাম রয়েছে।

তবে থম্পসনের দাবি, তাঁর অভিজ্ঞতায় ট্রাস্ট ব্যবহার করে কর ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি বেশি নেই এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে সম্পদ লুকিয়ে রাখায় সহায়তা করে না। রেডিও নিউজিল্যান্ডকে থম্পসন বলেন, ‘আমার মনে হয় এ ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে নিউজিল্যান্ডের সব বিদেশি ট্রাস্ট বেআইনি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, যা ভিত্তিহীন এবং মূলত অজ্ঞতাপ্রসূত।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী নিউজিল্যান্ড কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠার আরেক প্রমাণ দেশটিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ বছর আগে যেখানে নিউজিল্যান্ডে দুই হাজার বিদেশি ট্রাস্ট নিবন্ধিত হয়েছিল, সেখানে গত বছর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭০০ প্রতিষ্ঠানে।

এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই নিউজিল্যান্ডের বিরোধী দলগুলোর নেতারা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। ফলে নিউজিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকেও এর ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী জন কি। গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে হাজির হন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার পরিষ্কার প্রত্যাশা যে সব নিউজিল্যান্ডার আইনগতভাবে তাদের কর প্রদান করবে। আর পানামা পেপারস প্রকাশের ফল হিসেবে আইআরডি (অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ) ইতিমধ্যে নথিগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি দল গঠন করেছে। এ দল নিশ্চিত করবে যে নিউজিল্যান্ডবাসী তাদের কর প্রদানের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করে থাকে এবং একই সঙ্গে অন্যান্য দেশকেও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে।’ তবে দুর্বৃত্ত পরিচালকরা বিদেশি ট্রাস্ট ব্যবহার করতে পারেন, এ সম্ভাবনা সব সময়ই থাকে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন বিরোধী দলের নেতারা। দেশটির অন্যতম বিরোধী দল নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের নেতা উইনস্টন পিটার প্রধানমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে নিউজিল্যান্ড একটি কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য।

নিউজিল্যান্ডের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ড্রু লিটল বলেন, সরকারকে অবশ্যই ব্যাপক আকারে বৈশ্বিক কর ফাঁকির এই ব্যবস্থা বন্ধ করে নিউজিল্যান্ডের সুনাম রক্ষা করতে হবে। দেশটির আরেক বিরোধী দল গ্রিন পার্টির সহসভাপতি জেমস শ বলেন, ‘(নথি) পর্যালোচনা করে খুব বেশিদূর যাওয়া যাবে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তাঁকে কর ফাঁকির শিল্পের নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান।

সূত্রঃ রেডিও নিউজিল্যান্ড অনলাইন, বিজনেস ইনসাইডার ও রয়টার্স।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এসএ

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।