ব্রেকিং নিউজ :
August 1, 2015

ধূম্রজালে মধ্যবর্তী নির্বাচন

im09

তবে কী দেশে শীঘ্রই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সনসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বক্তব্যে এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে নির্বাচনের ‘ইঙ্গিত’ বলেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে যে কোন সময় মর্ধ্যবর্তী নির্বাচন হতে পারে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করে এ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিতে পারেন। শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়  সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে দলের পক্ষে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে যান তিনি। আশরাফ দাবি করেন,  এ ধরনের কোনো আলোচনা দল বা সরকারে এখনও হয়নি। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন।

বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করছি। তত্ত্ববধায়ক সরকার না হলেও চলবে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি করছেন তিনি। খালেদার আগের আবদার সরাসরি নাকচ করে দেয় ক্ষমতাসীনরা। কিন্তু এবারের আবদারে কিছুটা ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ জবাব দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীরা।

সাম্প্রতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে কিছুটা সড়ে এসেছেনে খালেদা। একারণেই নির্বাচন বিষয়ে ক্ষমতাসীনরা ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলছেন বলে ধারণা করছে  রাজনৈতিক বোদ্ধামহল। তবে, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। মন্ত্রীদের কেউ কেউ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইঙ্গিত দিলেও বাঁকীরা বলছেন যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এনিয়ে সৃষ্ট হয়েছে ধ্রুমজাল। বিভ্রান্তিতে পড়ছে দেশের সাধারণ মানুষ।

১০তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একবছর পুর্তিতে সরকার পতনের জন্য চলতি বছরে টানা কর্মসূচী ঘোষনা করে বিএনপি। জানুয়ারি মাসের শুরুতে ডাক দেওয়া ওই কর্মসূচীতে প্রাণহানী ঘটে কয়েকশ মানুষের। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে আসে কিছুটা স্থবিরতা। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে পরিস্থিতি কঠোর ভাবে সামাল দেয়। প্রায় তিনমাসের এই কর্মসুচী সরকারের ভিতে কোন চিড় ধরাতে পারেনি। ফলে অনেকটাই ব্যর্থ হয় এই কর্মসূচী। এরপর বিএনপি’র কর্মসূচী আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়।  তত্ত্বাবধায় সরকারের দাবিতে নির্বাচনের আগেও ‘নির্বাচন বানচাল’ করার জন্য মাঠে নেমেছিল বিএনপি ও চারদলীয় জোট। কিন্তু সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ বেশি সময় মাঠে থাকতে পারেনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। অবশেষে বিএনপি প্রধান নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তারা মনে করছেন- মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলে দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান ঘটবে। সংসদে একটি কার্যকর বিরোধী দল পাওয়া যাবে। এতে দেশের অগ্রগতির ধারা আরো গতিশীল হবে।

বিশ্লেষকরা আরো ভাবছেন- মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইঙ্গিত ‘টোপ’ হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে ক্ষমতাসীনরা। ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীল’ পরিবেশের মধ্য দিয়ে দশম নির্বাচনের নির্ধারিত সময় পার করার জন্য ‘কৌশল’ হিসেবে এ টোপ দেওয়া হতে পারে। কারণ, মধ্যবর্তী নির্বাচন হলেও সেটা কার অধীনে হবে- এ দ্বন্দ্ব রয়েই গেছে। বিএনপি বলছে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে। আর আওয়ামীলীগ বলছে হাসিনার অধীনেই হবে এই নির্বাচন। সহসাই এ দ্বন্দ্বের অবসানের কোন সম্ভাবনা নেই। ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীনরা প্রায় দুই বছর পার করতে চলেছে। এখন পর্যন্ত ধূম্রজালে আটকে আছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এমআই

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।