ব্রেকিং নিউজ :
May 20, 2016

“শবেবরাত”কে মহিমান্বিত ভাগ্যরজনী বলা হয় কেন?

4“শবেবরাত” কে বলা হয় মহিমান্বিত ভাগ্যরজনীও বলে থাকে। ‘লাইলাতু’ একটি আরবী শব্দ, আর ‘শব’ শব্দটি ফারসী। দুইটি শব্দের অর্থই হলো রাত। অপরপক্ষে বারাআত শব্দের অর্থ হলো- নাজাত, নিষ্কৃতি বা মুক্তি। এ রাতে বান্দারা মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট থেকে মার্জনা লাভ করে থাকেন। এ কারণে এ রাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা শবে বরাত বলা হয়। শাবান মাসের মধ্যর্তী রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হয়। এ ব্যাপারে কুরআন শরীফে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও হাদীস শরীফে এটাকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত্রি নামে অভিহিত করা হয়েছে। এর পক্ষকাল পরেই আসবে রহমত বরকত নাজাতের মাহে রমজান। এ কারণে এটাকে বলা হয় রমজানের মুয়াজ্জিন।

আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের আশায় এই রাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবাই রাত জেগে নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তেলাওয়াত, ইবাদত-বন্দেগি, ইস্তেগফার, জিকির-আসকার, তাসবিহ-তাহলিল, দোয়ায় মশগুল থাকেন। বর্ণিত আছে যে, সূর্য অস্তমিত হওয়ার পরক্ষণ থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লাহপাক বলতে থাকেন-আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী? যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থী? যাকে আমি রিজিক প্রদান করব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত? যাকে আমি বিপদমুক্ত করব? আল্লাহপাকের মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর পর্যন্ত। বস্তুত শবে বরাত হলো আল্লাহপাকের মহান দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা, আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এ রাত।

এ রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, পরবর্তী বছরের হায়াত, মউত, রিজিক, দৌলত, আমল প্রভৃতি যাবতীয় আদেশ-নিষেধ এ রাতেই ফয়সালা করা হয়। অতএব, প্রতিটি কল্যাণকামী মানুষের প্রধানতম কর্তব্য হলো এ সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে পূর্ণ রাত অতিবাহিত করা। রাসূলুল্লাহ (সা.) এ মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। নবী করীম (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা এই রাতে সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

এ রাতে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে নফল নামাজ পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটাই কাম্য। নফল নামাজের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় পড়তে থাকা। নিজের জন্য, নিজের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি,আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী ও সব মুসলমানের জন্য বেশি বেশি দোয়া করা, তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা। সম্ভব হলে পুরুষের জন্য কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করা, কবরবাসীদের জন্য দোয়া করাও সওয়াবের কাজ।

এ রাতের নফল আমলসমূহ বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকীভাবে করণীয়। ফরয নামাজ জামায়াতের সঙ্গে অবশ্যই মসজিদে আদায় করতে হবে। তবে নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার কোন প্রমাণ হাদীস শরীফেও নেই আর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন-তাবে তাবেঈনদের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। তবে এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলের ব্যাঘাত সৃষ্টি করবেন না।

এই রাতেই পরবর্তী বছর মৃত্যুবরণকারী মানুষ এবং পরবর্তী বছর জন্মগ্রহণকারী শিশুদের তালিকা করা হয়। এই রাতে শুদ্ধ মনে তওবা করার পর নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে এবং ইসলামী বিধান মেনে চলতে হবে। আর এ রাতে হালুয়া-রুটি, ফিন্নী-পায়েশ, খিচুড়ি, বিরিয়ানি প্রভৃতি বিতরণ বাধ্যতামূলক নয়। আলোকসজ্জা, হালুয়া-রুটি আর আতশবাজির মেলা এ রাতের পবিত্রতায় আঘাত হানে। কারণ উত্সব নয়, কেবল প্রার্থনার রাত শবে বরাত।

শবে বরাতে করণীয় আমলসমূহঃ

(১) নফল রোজা রাখা

 (২)নফল নামাজঃ ১. আউওয়াবিন ২. তাহাজ্জুদ ৩. সালাতুত তাসবিহ ৪. অন্যান্য নফল ৫. তাওবার নামাজ ইত্যাদি পড়া

(৩) কোরআন শরিফঃ ১. সুরা দুখান ২. অন্যান্য ফজিলতের সুরাসমূহ তিলাওয়াত করা;

(৪) দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া

(৫) ইস্তিগফার বেশি পরিমাণে করা

(৬) দোয়া-কালাম, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদি করা

(৭) কবর জিয়ারত করা

শবে বরাতে বর্জনীয় বিষয়সমূহঃ

(১) আতশবাজি, পটকা ফোটানো

(২) ইবাদত-বন্দেগি বাদ দিয়ে খামোখা ঘোরাঘুরি করা

(৩) অযাচিত আনন্দ-উল্লাস করা

(৪) বেহুদা কথাবার্তা ও বেপরোয়া আচরণ করা

(৫) অন্য কারও ইবাদতের বা ঘুমের বিঘ্ন ঘটানো

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এমএইচ /টিএম

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।