ব্রেকিং নিউজ :
June 1, 2016

কেন মুস্তাফিজ ‘জাতীয় বীর’?

00320কেন মুস্তাফিজ ‘জাতীয় বীর’01শামিম আহম্মেদঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্যের নাম মুস্তাফিজুর রহমান। মাত্র এক বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে গড়েছেন অসংখ্য কীর্তি। হয়েছেন আইসিসি’র বর্ষসেরা ওয়ানডে দলের সদস্য। ইতোমধ্যে তাকে নিয়ে চর্চা হয় বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনের প্রতিটি স্তরে। সম্প্রতি ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট আইপিএল জয় করে দেশে ফিরেছেন সাতক্ষীরা এই ছেলে। এছাড়াও বিগব্যাস, সিসিএল, পিএসএল এমনকি কাউন্ট্রি ক্রিকেটেও শুরু হয়েছে তাকে নিয়ে টানাটানি।  একজন বাংলাদেশী হিসাবে গর্বে আমারও বুকটা ভরে উঠে।

মুস্তাফিজের সাফল্যের জন্য অবশ্যই তাকে যোগ্য সম্মান দিতে হবে। কিন্তু সম্মান দেওয়ার সময় অতিরঞ্জিত হয়ে ঝোঁকের মাঝে আমরা কী হুশ হারিয়ে ফেলছি না? গত কয়েকদিনের সংবাদ মাধ্যমে মুস্তাফিজের সঙ্গে নিজেকে হিরো বানানোর জন্য যে যার মতো এক একটা উপাধি দিয়ে বেড়াচ্ছে। যা মাজারের তবারকের মতো, যে যার খুশি মত দিচ্ছে।

মুস্তাফিজ দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই দেখা গিয়েছে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। বিমানবন্দরে ফুল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। সেখানেই তিনি এই তরুণ তুর্কিকে ‘জাতীয় বীর’ উপাধিতে ঘোষিত করেন। কিন্তু কেন ‘জাতীয় বীর’?

মুস্তাফিজ পঞ্চম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসাবে খেলেছেন আইপিএল। তাঁর আগে খেলেছেন আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মাদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসান। হয়তোবা তিনি আইপিএল’এ সেরা বাংলাদেশী ক্রিকেটার। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আমি মানছি আইপিএল’এ তাঁর অসাধারণ সাফল্যের জন্য আগামীতে তামিম, তাসকিন ও সাব্বিরের খেলার পথ সুগম হবে। কিন্তু সে জন্য ‘জাতীয় বীর’ উপাধি।

২০১২ ও ২০১৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স’র জয়ের নায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। ইতোমধ্যে তিনি বিগব্যাস থেকে কাউন্ট্রি বিশ্বের সেরা টুর্নামেন্ট গুলোতে উড়িয়েছে বাংলাদেশের পতাকা। শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটেই নয় দেশের হয়ে মিঃ অলরাউন্ডারের তকমাটা লাগিয়েছেন নিজের গায়ে।

আমি কোন বিজ্ঞ ব্যক্তি নয়, কিংবা বড় কোন বিশ্লেষক। আমি দেশের অতি সাধারণ জনগণ। আমার ছোট মস্তিষ্ক যা বোঝে তা হল, যে দেশের জন্য বড় কোন কীর্তি গড়বে তাকেই দেওয়া হোক ‘জাতীয় বীরের’ তকমা। আর এই বিষয়টি আমাদের মিডিয়া আরও জোরে শোরে প্রচারে নেমেছে। প্রতিটি মানুষের তাঁর কাজের মূল্যায়নের জন্য প্রশংসার দরকার আছে। কিন্তু সেটা যেন অতিরিক্ত না হয়। টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো আবুল হাসান। প্রথম ম্যাচেই বিশ্ব রেকর্ড। সেই আবুল হাসান এখন দলের বাহিরে।  এরপর শামসুর রহমানের কথা না বললেই নয়। তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এ দুর্দান্ত সাফল্যের উপহার হিসাবে পায় জাতীয় দলের জার্সি। দেশের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলার আগে থেকেই মিডিয়ার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন তিনি। তারপরও দীর্ঘ হয়নি জাতীয় দলের যাত্রা। আমার ভয় হয় মুস্তাফিজের সঙ্গে যেন এমনটা না হয়। যদি মুস্তাফিজ বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপ উপহার দেয়। কিংবা ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে সম্মান উজ্জ্বল করে তাহলে শুধু ‘জাতীয় বীর’ নয় ‘বীর বাহাদুর’ খেতাব দেওয়া হোক।

বাহিরের দেশের টুর্নামেন্টে খেলার জন্য যেকোন খেলোয়াড়কে যদি আলাদা করে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা হয় , তা দেশের জন্য মোটেও সুখকর হবে না। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের মতো খেলোয়াড়রা দেশের চাইতে বাহিরের টুর্নামেন্টগুলো খেলতে বেশী উৎসাহিত হবে। তাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুল পথে আগাবে। তাদের মধ্যে দেখা যাবে না দেশ প্রেম।

এই লেখাটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত মতামত বাংলাদেশ২৪অনলাইন কর্তৃীপক্ষ দায়ী নয়।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।