ব্রেকিং নিউজ :
August 4, 2015

প্রসঙ্গ: ভুয়া লাইসেন্স

resize_1379741574উচ্চ আদালত ১৯ লাখ ভূয়া লাইসেন্স জব্দ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই আদেশকে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে একটি বিষয় ভাবিয়ে তুলছে- দেশে এই বিপুল সংখ্যক লাইসেন্স দেওয়া হলো কিভাবে, কারা এর সঙ্গে জড়িত; বছরের পর বছর এই লাইসেন্স দিয়ে সড়কে যান চলাচল করলো কিভাবে? বিষয়টি দেখভালোর দায়িত্ব পাওয়া সংস্থাগুলো কেন চোখ বুজে ছিল? একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে আদালত এই নির্দেশ দেয়। প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক হবে না যে, দৈনিকটি যদি এধরণের সংবাদ প্রকাশ না করতো তাহলে কি এইসব ভূয়া লাইসেন্সধারী চালক সড়ক-মহাসড়ক দাবড়িয়ে চলতো না?

গবেষকরা সব সময়ই বলছেন, অদক্ষ চালক সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারণগুলোর মধ্যে একটি। বলা অনুচিত হবে না এধরণের চালকদের হাতেই লাইসেন্সগুলো ছিল। যার খেসারত দিয়েছে সাধারণ মানুষ, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে; আহত হয়ে।

মজার ব্যাপার হলো- যে সংস্থাটি লাইসেন্স দেয়, তারাই এই ভূয়া লাইসেন্সের তালিকা তৈরি করেছে। সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটি বলছে, দেশে ১৮ লাখ ৭৭ হাজার চালকের কাছে বৈধ লাইসেন্স নেই। একারণে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যেই ১৫৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৯১ জন মারা গেছে। এসব দুর্ঘটনার ৬০ শতাংশই ঘটেছে চালকের দোষে। তারা এই তালিকা তৈরি করলো কিভাবে?

চালকদের সঙ্গে কথা বলে যতদুর জানা যায়, ভূয়া লাইসেন্সগুলোও তারা টাকার বিনিময়ে ওই সংস্থা থেকেই সংগ্রহ করে। এক্ষেত্রে যেটা হয়, তাহলো অরিজিনাল রেজিস্ট্রেশন বইয়ে এই লাইসেন্সর কোন তথ্য থাকে না। থাকে অন্য একটি ‘রেজিস্ট্রেশন বই(?)-এ। বইটি শুধু ভুয়া লাইসেন্স দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। কাজটি করে থাকেন সংস্থাটির কতিপয় নীতি বিবর্জিত কর্মকর্তা। তাদেরই তালিকায় ভূয়া লাইসেন্সের একটি সুনির্দিষ্ট খতিয়ান বের হওয়ায় এটা বোঝা যাচ্ছে যে, সর্ষ্যের মধ্যেই ভূত আছে।

আদালত যাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছে, তারা হয়তো আদালতকে বিভ্রান্ত করে পার পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। প্রাণপন চেষ্টা করবে বিচারের মুখোমুখি হতে বাঁচার জন্য। রাষ্ট্রপক্ষেরে কৌশলীর উচিত হবে, তারা যেন আদালতকে কোন ভাবেই বিভ্রান্ত করার সুযোগ না পায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রপক্ষেরে কৌশলী আরো বেশি আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন-এটাই প্রত্যাশ।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।