ব্রেকিং নিউজ :
August 5, 2015

এই নির্যাতন আর কতদিন?

 

hand signing (1)দেশে শিশু নির্যাতন এক ঘাতক ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে এ ঘটনা। কি বাসা-বাড়ি, কি কর্মস্থল; বাদ পড়ছে না রাস্তা-ঘাটে। সর্বত্র হচ্ছে নির্যাতন। অবলীলায়, নির্বিঘ্নে ঘটানো হচ্ছে এ ঘটনা। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা, আর মুখ বুজে এসব অত্যাচার সহ্য করছে শিশুরা।সাম্প্রতিক নতুন করে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হত্যা। নির্যাতনকারী শুধু নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, নির্যাতন শেষে মেরে ফেলছেন। এ যেন শিশুদের জন্য এক ভয়ংঙ্কর উপত্যকা। আপাত দৃষ্টিতে এর কোন প্রতিকার হচ্ছে বলে মনে হয় না। এ অবস্থা আর কতদিন চলবে? এ প্রশ্ন তাড়া করে বেড়াচ্ছে সচেতন মহলকে।

দু-একটি নৃশংস ঘটনা গণমাধ্যমের বদৌলতে নজরে আসছে। কিন্তু বাসা-বাড়িতে, কর্মস্থলে প্রতিদিন শত শত এ ধরনের ঘটনা থাকছে ধামাচাপা পড়ে। দেশে প্রতিদিন, প্রতিবছর কি সংখ্যক শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে- তার সঠিক কোন খতিয়ান সরকারের হাতে নেই। বিষয়টি রীতিমতো উদ্বেগের আর হতাশার। সরকার নারী ও শিশুদের জন্য একটি মন্ত্রণালয় চালু করেছে, রয়েছে অধিদপ্তর। মাঠ পর্যায়ে এসব অধিদপ্তরে কর্মরতরা মাস শেষে গুনছেন রাজকোষের হাজার হাজার টাকা। কিন্তু তাদের কাছেও শিশু নির্যাতনের কোন খতিয়ান আছে বলে জানা নেই। প্রশ্ন হলো এই এই অধিদপ্তরের করিৎকর্মা কর্মচারী-কর্মকর্তাদের মাসের পর মাস সরকারি টাকায় পোষা হচ্ছে কেন?  শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাদের কি কিছুই করার নেই? নাকি বৈদ্যূতিক পাখার বাতাস গায়ে লাগিয়ে মাস শেষে বেতন পকেটস্থ করাই তাদের কাজ?

যে দু-একটি আলোচিত ঘটনা আইনের আওতায় আসছে, তার বিচার প্রক্রিয়াও ঝুলছে বছরের পর বছর ধরে। অভিযুক্ত জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে ফের আগের চেহারায় ফিরছে। তাহলে প্রতিকারের কি কোন পথই খোলা নেই? বিপদসঙ্কুল পরিবেশেই কি বেড়ে উঠবে ঘুমিয়ে থাকা শিশুর পিতা? যতটুকু জানা যায়, বাসা-বাড়িতে নির্যাতনকারীদের বেশির ভাগই মহিলা। ক্রোধের কারণে এবং ধৈর্যের অভাবে তুচ্ছ কারণেই তারা গৃহকর্মী শিশুদের উপর আগ্রাসন চালায়। কিন্তু কেন? কেন তিনি ভূলে যান তার নিজের শিশুটিও এমনটি করতে পারতো।

শিশু নির্যাতন বন্ধের জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এধরণের মামলা রজ্জু করার জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার গাফিলতি করা উচিত হবে না। দুর্বল অভিযোগপত্রের কারণে অভিযুক্তরা যাতে পার না পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বাসা-বাড়িতে শিশু গৃহকর্মী নিয়োগে আইন করতে হবে। এই আইনে শিশুদের মৌলিক চাহিদা পুরণের সব শর্ত থাকা ও প্রতিপালন করা নিশ্চিত করতে হবে। আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল এসব গৃহকর্মীদের নারী ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়োগ পাওযা কোন শিশুর সঙ্গে আইনসিদ্ধ নয়, এমন আচরণ করা হলে মালিককে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করাটাও জরুরী। সরকার শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আরো কঠোর ও দায়িত্বশীল হবে- এটাই প্রত্যাশা।

 

 

 

 

 

 

 

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।