ব্রেকিং নিউজ :
August 6, 2015

প্রসঙ্গ: ছাত্রসংসদ নির্বাচন

resize_1379741574একটু পেছনে তাকালেই উপলব্ধি করা যায় দেশে ছাত্ররাজনীতির প্রভাব কতটুকু। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ’৭১; কম ছিল না ৮৫’র স্বৈরশাসকের পতনেও। দেশের ক্রান্তিকালে ছাত্রসমাজই কান্ডারি হয়ে জাতির হাল ধরেছে। দেখিয়েছে আলোর দিশা। স্বাধীনতা আন্দোলনের গোড়াপত্তনের শুরু হয়েছিল ছাত্ররাজনীতি থেকে। আজ মানুষ গণতন্ত্রের স্বাদ আস্বাদন করছে এই রাজনীতির কারণেই। কিন্তু সেই ছাত্ররাজনীতির আজ একি হাল, বির্বণ হচ্ছে সোনালী ইতিহাস। কিন্তু কেন?

বাংলাদেশ২৪অনলাইনে প্রকাশ পাওয়া এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন শুধু হতাশই করে না। রীতিমতো মর্মাহত ও উদ্বেগের। সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে ছাত্ররাজনীতির সোনালী ভাবমুর্তি জাদুঘরে জায়গা পেতে চলেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতি ‘ছাত্রসন্ত্রাস’তে পরিণত হবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদা মেধাবীরা এই রাজনীতিতে যুক্ত হতো। ক্লাশের মেধাবীদের অগ্রজরা এই রাজনীতিতে আসতে উদ্বুদ্ধ করতো। অগ্রজদের মতাদর্শ ভালো লাগলে, তারা এই রাজনীতিতে যুক্ত হতো। বেশির ভাগ সময় সর্বদলীয় নেতারা ছাত্রসংসদ পরিচালনার দাযিত্ব পেত। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে শরীক হতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ছাত্রসংসদে নিয়মিত আলোচনা হতো। এরাই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতো। কিন্তু আজ?

দুইযুগের বেশি সময় ধরে কোন ছাত্রসংসদে নির্বাচন হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী এনিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা গভীরভাবে ভাবনার বিষয়। কি ‘মধু’ আছে ছাত্রসংসদে; যে কারণে এই নির্বাচন দেওয়া হচ্ছে না? মজার ব্যাপারে হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সমিতি, কর্মচারী সমিতিসহ আরো অন্যান্য সমিতির নির্বাচন নিয়মিত হয়। শুধু ছাত্রসংসদ নির্বাচন ফাইলবন্দি থাকছে। স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের অযুহাত দিয়ে সরকারও দায় এড়াতে চাইছে। কিন্তু কেন? ছাত্রসংসদ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি দেশের বাইরে, সরকারের একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে? ছাত্রসংসদ নির্বাচন না হওয়ায় সুষ্ঠভাবে ছাত্র রাজনীতির চর্চা হচ্ছে না। সব সম্ভাবনা থাকার পরও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে সর্বজনবিদিত যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। এর দায় নেবে কে?

ছাত্ররাজনীতির নামে এখন যা হচ্ছে তাকে সুস্থ্য রাজনীতি বলা যায় না। ছাত্ররাজনীতির ব্যানারে ছাত্রসংগঠনের আড়ালে চলছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হল দখল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বরাদ্দের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে খাওয়ার মহাৎসব। এই ছাত্র সংগঠনের কমিটি গঠনেও অনুসরণ করা হচ্ছে না গণতন্ত্রের সুষ্ঠ চর্চা। বেশির ভাগ সময় গঠন করা হয় পকেট কমিটি। মূল দলের নেতারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়েন। কিন্তু কেন? তাদের স্বার্থ কি?

সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত হবে দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা। নিয়মিত ভাবে এই নির্বাচন করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া। একটা কার্যকর ছাত্রসংসদ তৈরি করা। সংশ্লিস্টদের এক্ষেত্রে যত দ্রুত বোধোদয় হবে ততই মঙ্গল।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।