ব্রেকিং নিউজ :
August 8, 2015

নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই

hand signing (1)রাজধানী ঢাকার খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকায় ব্লগার নিলয়কে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুপুর বেলায় ঘরের ভেতরে ঢুকে স্ত্রীর সামনে তাকে হত্যা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। এই নির্মমতা ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানানোর কোন ভাষা আমাদের জানা নেই। গণমাধ্যমে ঘটনার দৃশ্য বর্ণনায় আমরা বাকরুদ্ধ। নিলয়ের প্রিয়তমা স্ত্রীকে সান্তণা দেওয়ার কন্ঠও স্তব্ধ হয়ে আসছে।

দেশে ব্লগারদের কুপিয়ে হত্যার সংস্কৃতি বেশ পুরানো। সেই রাজীব থেকে নিলয়, এই মিছিলে যোগ দেওয়ানো হয়েছে ৫ জনকে। সবাইকে একই ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর ক্ষণিকের জন্য তৎপর হতে দেখা গেছে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। সময়ের ব্যবধানে সেই তৎপরতায় পড়েছে ভাটা। প্রত্যেকটি ঘটনায়ই পৃথক পৃথক মামলা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল শূণ্য। আর এর মাশুল গুনছেন প্রতিটি ব্লগারের পরিবারের সদস্যরা, উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে। বিচারের আশায় নিভৃতে কাঁদা আর বুক চাপড়ানো ছাড়া তাদের কিছুই করার নেই। বেঁচে থাকা ব্লগার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দেখা দিয়েছে একই প্রশ্ন- এর পর কে?

সংবিধান মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। সরকারকে এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। তাহলে কেন বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে? হরণই নয়; কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মত প্রকাশকারীর জীবন। কিন্তু কেন? ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ধোয়া তুলে কথিত উগ্রগোষ্ঠী এই হত্যাকান্ড ঘটিয়ে চলছে। যে সব ব্লগারের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তারা সবাই কি ধর্মের বিরোধীতা করেছিলেন- বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। এটা ঠিক যে, একটি নিবন্ধ শুধু পাঠকের  জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি ও আনন্দই দেয় না, বরং সচেতনও করে তোলে। ৭১’র ১৪ ডিসেম্বর জাতিকে পুঙ্গ করার জন্য বেছে বেছে বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করা হয়েছিল। দেশ স্বাধীনের ৪২ বছর পর সেই রেওয়াজ শুরু হয়েছে। মুক্ত বুদ্ধিচর্চার সঙ্গে জড়িতদের নির্মম ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। কোন নিবন্ধ ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানলে সংশ্লিষ্ট লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করে বিরোধীতা করা যায়। শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু সেই ধোয়ায় মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার কি কারো আছে, কোন ধর্ম দিয়েছে?

৫জন ব্লগার হত্যার ঘটনার একটিরও বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। এটা বলা অনুচিত হবে না যে, বিষয়টি এই ব্যাধি সংক্রামক আকারে রূপ নেওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণের একটি। কেন জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না- তা আমাদের বোধগম্য নয়। প্রথম ঘটনাটির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে, হয়তো পরের চারজনকে অকালে জীবন হারাতে হতো না।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত হবে, সবগুলো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখী করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এজন্য কোন গাফিলতি ও অযুহাত মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য যা যা করা দরকার, সরকারকে তাই-ই করতে কালক্ষেপন করা উচিত হবে না। বিষয়টি যত দ্রুত উপলব্ধি করা যাবে, ততই মঙ্গল।

 

 

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।