ব্রেকিং নিউজ :
August 1, 2016

বর্বরোচিত গুলশান ট্র্যাজেডির এক মাস

 

160721135248_bangladesh_gulshan_foreigners_640x360_bbcbangla_nocreditগুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নজিরবিহীন জঙ্গি  হামলার একমাস অতিবাহিত হয়েছে। ভয়াবহ সেই হামলার পর গুলশানসহ পুরো রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে এমনটাই দাবী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের। তারপরও আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছেন গুলশান এলাকায় বসবাসরত দেশি-বিদেশি নাগরিকেরা। এই হামলার মূল হোতাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, প্রশিক্ষক ও জড়িতদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশের একাধিক সূত্র।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গত ২৪ জুলাই সাংবাদিকদের জানান, “গুলশানের হলি আর্টিজানে কিভাবে হামলা হয়েছে, কারা করেছে তাদের সূত্র পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সব মিলিয়ে বলা যায়, তদন্তে যথেষ্ঠ অগ্রগতি হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র”।

পহেলা জুলাই রাতে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজানে রেস্তোরায় দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে জঙ্গি সন্ত্রাসীরা।  কিছু বুঝে উঠার আগেই জঙ্গিদের ছোঁড়া গ্রেনেড ও গুলিতে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন পুলিশের দুই সদস্য। জিম্মিদের উদ্ধারে সতর্ক বাংলাদেশ সরকার ডেকে পাঠায় সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে।

নানা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ভোরে ১২ মিনিটের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টের’ মাধ্যমে শেষ হয় জিম্মি সংকট। উদ্ধার করা হয় ১৭ জন বিদেশিসহ ৩ জন বাংলাদেশির মৃতদেহ। জঙ্গি সন্ত্রাসীরা ওই ২০ জনকে নির্মমভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত পিস্তল, পয়েন্ট ২২ রাইফেল, হাতে তৈরি গ্রেনেড (আইইডি), ওয়াকিটকি সেট ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র।

7-9দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটে যাওয়া ট্র্যাজিক ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো বাংলাদেশ। একই সাথে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দেশের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। এতো দিন ধারণা করা হতো মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সাথে জড়িত। সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছে গুলশান হামলা। বিভিন্ন সূত্র মতে, গুলশানে হামলাকারি ৭ জনই উচ্চশিক্ষিত ও ধনী পরিবারের সন্তান। বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া উচ্চ শিক্ষিত তরুণ ও ধনী পরিবারের সন্তান। এরা কেউই কখনোই মাদ্রাসায় পড়তে যায়নি।

হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যাদের কোনো অভাব নেই তারাই এখন জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে, বেহেস্তের হুর পরী পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে‍। তিনি আরও বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে অনেকে। অথচ মানুষ খুন করলে বেহেস্তের দরজা খোলে না। এই তরুণদের কারা অস্ত্র দিচ্ছে, কারা অর্থ যোগাচ্ছে, তাদের তথ্য সম্মিলিতভাবে খুঁজে বের করতে হবে।

উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার তথ্য নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা সমাজকে। ফলে উগ্রবাদ সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতার কথা বলছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরুণ সমাজকে বিভ্রান্তিতে ফেলে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে একটি চক্র উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত করছে। যে কোনো উপায়ে হোক না কেন সেই বিষফোঁড়াকে উপড়ে ফেলে দেশের তরুণদের রক্ষা করতে হবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘একজনকে হত্যা করলে সে বেহেস্তে চলে যাবে এই মানবিকতাটা হলো এখন উদ্বেগের বিষয়। যেন কাউকে ভুল বুঝিয়ে তরুণ কিশোর- কিশোরীকে যেন বিপথে না নিয়ে যেতে পারে সেই জন্য আমরা দেশের জনগণকে ও বিভিন্ন কমিটিকে কাজে লাগাতে চাচ্ছি। যেন তারা এ বিষয়ে সচেতন হয়।’

7এদিকে, কূটনৈতিক জোন গুলশান-বনানী-বারিধারার আবাসিক এলাকায় বেআইনিভাবে গড়ে উঠা ৮৩০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে ৭৭টি নামিদামি দেশি-বিদেশি রেস্টুরেন্ট, হোটেল, বার ও ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে আসে। গত ৪ঠা এপ্রিল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর ৬ মাসের মধ্যে নিজ থেকে গুটিয়ে নেয়ার জন্য আবাসিক এলাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানকে উচ্ছেদ করতে অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

গুলশান এলাকার নিরাপত্তায় জোরদার করা হয়েছে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোড়ে মোড়ে বসেছে পুলিশের চেকপোস্ট, বেড়েছে টহল। গুলশানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে গুলশানের পুলিশ, র‍্যাব ও কূটনৈতিক পুলিশ। বিশেষ বিশেষ স্থানে রয়েছে ২০০টি সিসি ক্যামেরা। যা দিয়ে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘সাম্প্রতিক দুই ঘটনার পর পুরো রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অফিস ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তায় জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/টিএম

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ bangladesh24online.news@gmail.com

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।