ব্রেকিং নিউজ :
September 14, 2016

ঈদে ঘুরে আসুন নিঝুম দ্বীপে

12569_nijhum-dip-1প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নিঝুম দ্বীপ। আয়তনে দ্বীপটি খুব বড় নয়, এক ঘণ্টা হাটলে দ্বীপের একমাথা থেকে অন্য মাথায় পৌঁছে যাওয়া যায়। প্রায় ১৪ হাজার ৫০ একর এলাকা নিয়ে দ্বীপটি গঠিত, ধারণা করা হয় ১৯৫০ এর শুরুর দিকে দ্বীপটি গড়ে ওঠে। শুরুর দিকে এখানে মানুষ গরু-ছাগল চরাতো।

জনশ্রুতি আছে, ওসমান নমে এক লোক প্রথম এ দ্বীপে বসতি গড়ে, সে কারণে অনেকে এ দ্বীপটির নাম চর ওসমান নামেও উল্লেখ্য করে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে, নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ অংশ বেয়ে জেগে উঠেছে দ্বীপটি। চাইলে যে কোন পর্যটক যে কোন ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন নিঝুম দ্বীপ থেকে।

১৯৭০ সালের আগে এখানে কোন স্থায়ী বসতি স্থাপিত হয়নি। ১৯৭০ এর পর থেকে এখানে লোক সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। একসময় নিঝুম দ্বীপ হাতিয়ার নির্বাচনী এলাকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নিঝুম দ্বীপ এখন আর নিঝুম নেই, ২০০১ সালে জনসংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৬৭০, বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখানকার মানুষের প্রধান কাজ মাছ ধরা, এর পাশাপাশি তারা কৃষি কাজ ও গবাদি পশু পালনের সাথেও জড়িত। এখানে জেলেরা মাছ ধরে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করে। প্রতিদিন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি লঞ্চ , ট্রলার এবং ছোট-বড় নৌকা শুটকি মাছ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। বেশির ভাগ সময় যায় চট্টগ্রাম ।

নিঝুম দ্বীপটিকে সরকার ২০০১ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। হরিণের অভয়ারণ্য হিসেবে এ দ্বীপটি বিশেষভাবে পরিচিত। এ দ্বীপে প্রায় ৫ হাজার চিত্রা হরিণ আছে। বাংলাদেশে এরকম অভয়ারণ্য রয়েছে আরো তিনটি। এখানে হরিণ শিকার, চামড়া এবং শিং সংগ্রহ নিষেধ।

নিঝুম দ্বীপের মানুষে জীবন খুবই কঠিন, দ্বীপে যানবাহন হিসেবে সাইকেল, রিকশা দু-একটা কদাচিত চেখে পড়ে। রাস্তাও খুব একটা সুবিধা জনক নয়, উপজেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো নৌকা। নিঝুম দ্বীপ থেকে হাতিয়ায় যেতে ছোট একটি নদী পাড় হতে হয়। এখানকার বাড়িগুলো কাঠ,বাঁশ,খড়, টিন দিয়ে তৈরি। বেঁচে থাকার জন্য তারা নিয়মিত সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

হাতিয়া থেকে নোয়াখালীতে আসা-যাওয়ার জন্য দিনে একটি নিদিষ্ট সময়ে রয়েছে একটি মাত্র স্টিমার যা এখানে সি-ট্রাক নামে পরিচিত। নির্দিষ্ট সময়ে সি-ট্রাক ধরতে না পারলে আবার পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় অথবা ট্রলারে যেতে হয়। কিন্তু বিপদের কথা শুনে ট্রলারের মালিকরা হাকিয়ে বসে পাঁচ-সাত গুণ বেশি ভাড়া। ফলে দরিদ্র অসহায় লোকগুলো আরও অসহায় হয়ে পড়ে। এখানে নেই কোন প্রাইমারি স্কুল, তবে ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে তোলা দু-একটি মাদরাসা চোখে পড়ে। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে একটি রেস্টহাউস। তার পাশেই রয়েছে ছোট একটি বাজার।

নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ণনাতীত, এখানে রয়েছে ঘন সবুজ বন, দেখা যায় শাসমূল ও ঠেশ মূলের গাছ, রয়েছে চিত্রাল হরিণ, বঙ্গোপোসাগরের কোল ঘেষা সুবিশাল বালি রাশি। শীতকালে অসংখ্য অথিতি পাখি এ দ্বীপে এসে ভিড় জমায়। নিঝুম দ্বীপের পাশেই রয়েছে আরও ছোট-ছোট কিছু দ্বীপ, সেখানেও রয়েছে জনবসতি। এখানে উপভোগ করা যায় নৌকা ভ্রমণ,সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

সরকার ইচ্ছে করলেই এ দ্বীপটিকে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তাহলে এক দিকে যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং অপর দিকে সমৃদ্ধ হবে সরকারের রাজস্ব ভাণ্ডার। এখনও প্রতিদিন বহু পর্যটক এখানে আসে, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে আরও পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে, এমনকি এখানকার মানুষের জীবন-যাত্রার মানও উন্নত হবে

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/মো. মিজানুর রহমান রিয়াদ/এএন

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।