ব্রেকিং নিউজ :
September 15, 2016

ঘুরে আসুনঃ প্রকৃতি সৌন্দর্য আর ঐতিহাসিক নিদর্শনে ভরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ

c1912899b4a73fc9e716915b229f7e7e-57d5701ef3dc5প্রকৃতির সাথে পুরাকীর্তি যাদের সমানভাবে আকর্ষণ করে এবং ছুটি কাটানোর জন্য যারা একটু নিরিবিলি প্রকৃতির সান্নিধ্য চান তারা চলে আসতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার সর্বাধিক গুরুত্ব এবং ধনজনপূর্ণ একটি ভৌগলিক অঞ্চল এ গৌড় নগরী। এ অঞ্চলের মাটি নানান ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের নিরব সাক্ষী। নানা ধর্মাবলম্বী রাজা, মহারাজা, সুলতান, সম্রাট ঐতিহাসিক গৌড় নগরীর বুকে সগৌরবে দাঁড়িয়ে রাজ্য শাসন করে গেছেন যুগে যুগে। ইতিহাসই এর অমর সাক্ষী।

আম, রেশম, কাঁসা, পিতল, লাক্ষা, নকশীকাঁথা, মাছ আর ধানে ধন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গান, আলকাপ, মেয়েলী গীত, টপ্পা গান ও লোক কাহিনীর মত লোকজ উপাদানে উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধশালী এ অঞ্চলের অতীত অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ ও গৌরবময়। অজস্র বৌদ্ধ, হিন্দু ও ইসলামী স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন আজও বুকে ধারণ করে রেখেছে এ জনপদ।

গোটা জেলাজুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় নানা পুরাকীর্তির নিদর্শন। যার অন্যতম গৌড়ের ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদ। মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের এক অপূর্ব নিদর্শন এটি। মসজিদের চার কোণায় ৪টি অষ্টকোণাকৃতির মিনার বা টারেট এবং উপরে ১২টি অর্ধগোলাকৃতির ও ৩টি চৌচালা আকৃতির মোট ১৫টি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলোতে একসময় সোনার পিণ্ড করা ছিল বলে জানা যায়। এ কারণেই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে সোনা মসজিদ। স্থাপত্যকলা ও শৈল্পিক সৌন্দর্যের বিচারে এ মসজিদ গৌড়ের রত্নহিসেবে পরিচিত। মসজিদটি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে ওয়ালী মুহাম্মাদ কর্তৃক ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত হয়।

ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদের থেকে খানিকটা দূরেই অবস্থিত তোহাখানা। ১৬৫৫সালে শাহ সূজা এটি নির্মাণ করেন। কথিত আছে শীতকালীন তাপ নিয়ন্ত্রক ইমারত হিসেবে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আর এর পাশেই রয়েছে মোঘল আমলের একটি মসজিদ ও হযরত শাহনেয়ামতুল্লাহ (রাঃ) মাজার।

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদিঘী গ্রামের পশ্চিমে অবস্থিত প্রাচীন স্থাপত্য কলার আরেক নিদর্শন দারাসবাড়ি মসজিদ। মসজিদটি বাংলার মুসলিম শাসনামলের মধ্যযুগীয় স্থাপত্যকলার নিদর্শন। মসজিদের পূর্বে ছোট দীঘির পাশেই বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে দারাসবাড়ি মাদ্রাসা। ধারণা করা হয় ১৫ শতকে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ-এর আমলে নির্মিত এই মাদ্রাসাটি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন মাদ্রাসার নিদর্শন। একসময় মাদ্রাসাটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল; যেখানে নদীয়া, পশ্চিম দিনাজপুর, মালদহ, দেশর উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের লোকজন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতেন। মাদ্রাসাটিতে ৩০০ জন শিক্ষক সে সময় শিক্ষা দিতেন। এছাড়া জেলায় যে সকল মুসলিম শাসনামলের মসজিদ রয়েছে এটি তার মধ্যে সর্ববৃহৎ।

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।