ব্রেকিং নিউজ :
October 3, 2016

সুন্দরবনে এবার ইট রড সিমেন্টের অবকাঠামো!

‘প্রটেকশন অব সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট’ শিরোনামের প্রকল্পের আওতায় ‘ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান সুন্দরবনের ভেতরে ইট-সুরকির অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অতি সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বন বিভাগ। ১৮৭৯ সালে ঘোষিত সংরক্ষিত বনে ইট-সুরকির অবকাঠামো নির্মাণে নিরুৎসাহ করা হলেও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ক্যাম্পে  ইট-বালু-রড-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি হবে তৈরি করা হবে চারতলাবিশিষ্ট বেশ কয়েকটি ভবন, অফিসের জন্য একাধিক ভবন,পর্যটকদের থাকার জন্য ডরমিটরি ও ইকো কটেজ ।  তিন কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি জিপ ও ২০টি মোটরসাইকেল কেনারও আয়োজন চলছে। সুন্দরবন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি ওয়াচ টাওয়ার, বনের ভেতর সীমানা দেয়াল এবং ইকো ট্যুরিজমের উন্নয়ন ঘটাতে সুন্দরবনের ভেতর সড়ক ও ঝুলন্ত সেতুও নির্মাণ করতে চায় বন বিভাগ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক ভাগে গড়ে ওঠা সুন্দরবনকে তার মতো করেই থাকতে দেওয়া উচিত। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা ঠিক হবে না। নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে সেখানকার ইকো সিস্টেমের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বন্য প্রাণীর মধ্যেও ভয় ঢুকে যাবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ভেতর থাকা বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকবে। সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেও বিরূপ প্রভাব পড়‍াটা খুবই ক্ষতিকর হবে।

পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রস্তাবে বন বিভাগ জানিয়েছে, সিডর, আইলার মতো বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাঁচানোর জন্য সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে ক্যাম্পগুলোতে চারতলা ভবন নির্মাণ করতে চায় তারা। ইকো ট্যুরিজমের উন্নয়নে বাগেরহাটের চাঁদপাই রেঞ্জে দুটি স্টাফ ব্যারাক নির্মাণ এবং চাঁদপাই, কটকা, করমজল, হাড়বাড়িয়া ও কৈলাসগঞ্জে প্রক্ষালনকক্ষ নির্মাণের প্রস্তাব করেছে বন বিভাগ। এ ছাড়া সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে ইকো ট্যুরিজম উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ডরমিটরি নির্মাণেরও পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বড় দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। এসব ভবন হবে ইট-বালু-রড-সিমেন্ট দিয়ে। কিন্তু পরিবেশবিদরা বলছেন, এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ সুন্দরবনের বাইরে করা ভালো। তাঁরা বলছেন, ভবন বানালে জোরে শব্দ হবে। গভীর নলকূপ বসালে মোটর ছাড়তে গেলেও শব্দ হবে। এতে বন্য প্রাণীর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/এসএম

 

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।