ব্রেকিং নিউজ :
October 12, 2016

টাইগারদের স্বপ্নভঙ্গ  

 

122চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডে ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ২৭৭ রান সংগ্রহ করে। টাইগারদের দেয়া ২৭৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয় লাভ করে।  এর ফলে সিরিজটি ২-১ এ হারলো মাশরাফি বাহিনী। এ ম্যাচে হারার ফলে ঘরের মাঠে টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো টাইগারদের। ইংল্যান্ডের পক্ষে আদিল রশিদ দুর্দান্ত বোলিং করে  ৪ টি উইকেট নেন। ফলে তিনি আজকের ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পান। আর সিরিজ সেরা পুরস্কার পান বেন স্টোকস।

জয়ের জন্য ইনিংসের শুরুটা ইংল্যান্ড বেশ ভালভাবে শুরু করে। তবে দলীয় ৬৩ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে তাদের। ৩৭ বলে ৩২ রান করে নাসিরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় জেমস ভিন্স।

এরপর ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের করা ইনিংসের ২৫তম ওভারের তৃতীয় বলে ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান স্যাম বিলিংস। আউট হওয়ার আগে তিনি ৬৯ বলে করেছেন ৬২ রান।

ইনিংসের ৩২তম ও নিজের ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে জনি বেয়ারস্টোকে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন পেসার শফিউল। আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ১৫ রান করেছেন বেয়ারস্টো। তারপর শফিউল ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা ডাকেটকে ফেরান ৬৩ রানে।

এরপর ইংলিশ অধিনায়ক বাটলারকে ২৭ রানে আউট করে প্যাভিলিয়ানে পাঠান মাশরাফি। এরপর আবার  ইংলিশ শিবিরে মাশরাফি আঘাত হানেন। তিনি মঈন আলীকে মাত্র ২ রানে আউট করেন। তাকে আউটের মাধ্যমে ২১৬ উইকেট নিয়ে বর্তমানে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বাংলাদেশি বোলার হলেন মাশরাফি।

তবে এরপর আর ইংলিশদের উইকেটের পতন ঘটেনি।  তারা ১৩ বল বাকি রেখে  ৪ উইকেটে ম্যাচ ও সিরিজ জয় লাভ করে নেয়। বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ও  শফিউল  দুটি করে উইকেট নেন। আর নাসির ও মোসাদ্দেক নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে বাংলাদেশ দল সতর্কভাবে তাদের ইনিংস শুরুর পরও ব্যক্তিগত ৫০ করার আগেই খেই হারিয়ে ফেলেন ওপেনার ইমরুল কায়েস। দলীয় ৮০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৬ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয় ১০৬ রানে, রশিদের বলে ভিন্স এর হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তামিম। বিদায়ের আগে ৬৮ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৪৫ রান করেন তিনি।

এরপর টানা দুই ওভারে উইকেট নেন আদিল রশিদ। এই ইংলিশ লেগ স্পিনারের বলে ছক্কা হাঁকানোর পরেই শর্ট বলে জনি বেয়ারস্টোকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ (৭ বলে ৬)। ইমরুল কায়েসের পর ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালও (৬৮ বলে ৪৫) ফিরেন চল্লিশের ঘরে গিয়ে। আদিল রশিদের বলে কাভারে জেমস ভিন্সকে ক্যাচ দেন বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।

তামিম ইকবাল-মাহমুদউল্লাহর দ্রুত বিদায়ের কোনো প্রভাব দলের ওপর পড়তে দেননি সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহিম। এই দুই ডান হাতি ব্যাটসম্যান দ্রুত রান তুলে দলকে নিয়ে যান ভালো অবস্থানে। ৬.৫ ওভারে আসে তাদের অর্ধশত রানের জুটি। ২১ থেকে ৩০ ওভারের মধ্যে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহকে হারালেও এই সময়ে ওভার প্রতি সাতের বেশি রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ৩০তম ওভারে দেড়শ’ ছুয়ে ফেলে বাংলাদেশ।

দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের মতো চল্লিশের ঘরে বিদায় নেন সাব্বির রহমানও (৪৬ বলে ৪৯)। ৩৩তম ওভারে আদিল রশিদের বলে উইকেটরক্ষক জস বাটলারের গ্লাভসবন্দি হন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের স্কোর তখন ১৭৬/৪।

ফুলটস বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন নাসির হোসেন (১০ বলে ৪)। ৩৮তম ওভারে আদিল রশিদের বলে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের স্কোর তখন ২০২/৬। এর আগে স্টাম্পড হয়ে ফিরেন সাকিব আল হাসান (১০ বলে ৪)। মইন আলির বল জস বাটলারের গ্লাভস থেকে ছুটে গিয়ে আঘাত হানে স্টাম্পে।

দলের প্রয়োজনের মুহুর্তে হাল ধরেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহীম আর তাকে সঙ্গ দেন মাত্র ৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা মোসাদ্দেক। শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহীম ৬২ বলে ৬৭ ও মোসাদ্দেক ৩৯ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ইংল্যান্ডের পক্ষে আদিল রশিদ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। তিনি ১০ ওভার বল করে ৪৩ রান দিয়ে ৪ টি উইকেট নেন। এছাড়া বেন স্টোকস ও মঈন আলি নেন ১টি করে উইকেট।

বাংলাদেশ২৪অনলাইন/টিএম

একই রকম সংবাদ

সম্পাদকঃ আলী অাহমদ
যোগাযোগঃ ১৪৮/১, গ্রীণ ওয়ে, নয়াটোলা, মগবাজার, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০১৭৯৪৪৪৯৯৯৭-৮
ইমেইলঃ [email protected]

Copyrıght Bangladesh24online @ 2015.               এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ।