রিজার্ভে হাত না দিয়েই প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ নভেম্বর ২০২৪

পতিত শেখ হাসিনা সরকারের তলানিতে রেখে যাওয়া দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি এখন উন্নতির পথে উল্লেখ করে অন্তর্তর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তার সরকারের গত তিন মাসে রিজার্ভে কোনোরকম হাত না দিয়েই প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করা হয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানিতে পুঞ্জীভূত বকেয়া ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ১৬০ মিলিয়ন ডলারে আনা হয়েছে।

রোববার (১৭ নভেম্বর) অন্তর্র্বতী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিষয়টি জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টার কথায়, আমাদের কাজ শুরু করার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে। আশার কথা রিজার্ভ পরিস্থিতি এখন উন্নতির পথে।

তিনি বলেন, আমরা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা ঋণ অনুদান হিসেবে প্রায় বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থায়ন দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পতিত সরকার যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেখে গেছে, এতে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে।  তারপরও জুলাইয়ের নেতিবাচক অবস্থা কাটিয়ে অক্টোবর নাগাদ রাজস্ব আদায়ে পৌনে শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। তাই এবার শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ফলে স্বৈরাচার পতন পরবর্তী তিন মাসে পৌনে শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পরও লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ শতাংশের বেশি ঘাটতি থেকে যায়। রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে এখন অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করছি আমরা। তার সরকারের একশ দিনে দেশের অর্থনীতি সবল অবস্থানে চলে এসেছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এখনো আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে যে সাহায্যের আয়োজন হয়েছে, সেটা আসা শুরু করেনি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলো শুধু বড় বড় অঙ্কের সাহায্য নিয়ে আসছে না, তাদের সাহায্য দ্রুততম সময়ে আসা শুরু করবে বলে প্রতিশ্রুতিও আমাকে দিয়েছে। সাহায্য আসা শুরু করলে দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত এবং আকর্ষণীয় অর্থনীতিতে পরিণত হবে। সেই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নানারকম বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসবে।

অর্থ পাচার সংক্রান্ত দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া তথ্য উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রতি বছর দেশ থেকে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে পতিত সরকার তার দোসররা। তিনি জানান, পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভব সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  এতে সফল হলে আমাদের অর্থনীতি আরো গতি পাবে। কাজে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি আমরা।

 

বিডি২৪অনলাইন/এন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর