দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে চেয়ারম্যান না থাকায় নানা ধরণের ভোগান্তি বেড়েছে সংশ্লিষ্ট পরিষদের নাগরিকদের। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের সনদের ক্ষেত্রে তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। আগে যেখানে চাহিদার ভিত্তিতে দিনেই বিভিন্ন ধরণের সনদ পাওয়া যেত, সেখানে এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে ২-৩ দিন। তাছাড়া বন্ধ রয়েছে গ্রাম্য আদালতের কাযক্রম। এতে পারিবারিক অনেক সমস্যা জিইয়ে থাকছে, বাড়ছে পারিবারিক ও সামাজিক অশান্তি। বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয় গত ৫ আগস্ট। এরপর বেশ কিছুদিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অপসারণ করা হয়, অনেক জায়গায় চেয়ারম্যানও পদত্যাগ করেন। চেয়ারম্যানের জায়গায় নিযুক্ত করা হয় প্রশাসক। ইউএনও এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। মুলত এ কারণে সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের।
কারণ বুঝাতে গিয়ে সুত্রগুলো বলছেন, বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে একজন ইউএনও বা এসিল্যান্ড দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পালনে তার আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। কিন্তু নিজের দপ্তরের বাইরে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে। এ ক্ষেত্রে চাইলেও একই দিন সবগুলো পরিষদে যেতে পারছেন না তিনি। সে ক্ষেত্রে ইউপি সচিবরা সবগুলো আবেদন জড়ো করে সেটা নিয়ে আসছেন উপজেলা পরিষদে প্রশাসকের নিজের দপ্তরে। এরপর প্রশাসক সেই সনদে সাক্ষর করছেন। ইউনয়ন পরিষদ থেকে প্রশাসকের দপ্তরে যাতায়াত, আবেদন পক্রিয়া ও সনদে স্বাক্ষরের পেছনে ওই ২-৩ দিন লাগছে।
এক ইউপি সচিব ও একাধিক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান থাকলে তিনি প্রায় নিয়মিতই পরিষদে আসেন। তখন সনদ সই করে নেওয়া হয়। তাছাড়া কিছু সনদের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ‘ফাঁকা’ সনদপত্রে সই করে রাখেন। সেক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতার আবেদন সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট মেম্বার নিশ্চিত করলে তাকে সনদ দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর সেটা আর হচ্ছে না। ফলে সনদ বিতরণে সময় ক্ষেপন হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে আলাদা আলাদা প্রশাসক নিযুক্তের কথা বলছেন তারা। তাদের মতে, এটা করলে সময়ের বিড়ম্বনা দূর হবে। নাগরিক সেবা যথাযথ সময়ের মধ্যেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিডি২৪অনলাইন/এন/এমকে