নবযাত্রার বাংলাদেশে ৫৩তম বিজয়ের উল্লাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

আজ ১৬ ডিসেম্বর, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের বিজয় দিবস। টানা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের আজকের দিনে সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সে হিসাবে এবার ৫৩তম বিজয় দিবস। এদিকে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ১৫ বছরের বেশি সময় ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। জাতি নতুন উদ্যম ও উদ্দীপনা নিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করছে এবার।

গত ৫ আগস্ট ঢাকার রাজপথে জন বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের অবসান ঘটে। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য তার সরকার ক্ষুব্ধ জনতার রোষানলের মুখে পড়লে ভারতে পালিয়ে যান তিনি। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পর অধিকাংশ দেশবাসী এ অর্জনকে 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা' বলেও অভিহিত করছেন।

দেশ স্বাধীনের জন্য ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হঠাতে এবং এরপর এ বছর শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে যেসব শহিদ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বিজয় দিবসে নতুন করে শপথ গ্রহণ করছে জাতি ।

বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস আলাদা বাণী দিয়েছেন। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকালে ঢাকার অদূরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ফুলেল শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ করছেন।

আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।  এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভবন স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।

মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ছায়ানট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করছে।

 

বিডি২৪অনলাইন/এন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর