২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এর পর থেকে বেড়েই চলছে এ ঋণের পরিমাণ। গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ তিন লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে–বেনামে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে, নিয়মনীতি সঠিকভাবে পালন করায় সেটা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। এতে ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। খেলাপি ঋণ বাড়লেও ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের টাকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ ১৩২ কোটি টাকা। ছয় মাসে বেড়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা।
তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৫ হাজার ৭৩ কোটি টাকা।
এ অবস্থায় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে খেলাপি ঋণ কমানোর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছে না। যদিও অর্থনীতিবোদ্ধারা মনে করছেন, খেলাপি ঋণ কমানোর এখন প্রকৃত সময়। এ জন্য ঋণ আদায়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। আর আদায় ছাড়া কোনোভাবেই খেলাপি ঋণ কমানো সম্ভব হবে না বলেও মনে করেন তারা। তারা জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণের এতদিন যারা ঢেকে রেখেছেন, তাদের ছাড়া দেওয়া ঠিক হবে না। যারা ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না, তাদের ধরতে হবে। প্রয়োজনে খেলাপিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলার নিস্পত্তি করতে হবে। ঋণ আদায়ের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, সম্পত্তি জব্দসহ প্রয়োজনে জেলে পাঠাতে হবে। আর জামিনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ঋণের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আদায় নিশ্চিত করতে হবে। শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেও খেলাপি কমে যাবে বলে জানান তারা।
বিডি২৪অনলাইন/ই/এমকে