নতুন রেকর্ড হচ্ছে রেমিট্যান্সে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মার্চ ২০২৫


জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরপরই বাড়তে থাকে রেমিট্যান্সের গতি। গত ডিসেম্বরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ (প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার) রেমিট্যান্স আসে। এরপর  দ্বিতীয় সর্বেচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে  গেল ফেব্রুয়ারিতে (প্রায় ২৫৩ কোটি ডলার)। আর চলতি মার্চে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হতে পারে রেমিট্যান্সে। কেননা এ মাসের প্রথম ১৫ দিনে ইতোমধ্যেই ১৬৫ কোটি ৬১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সে হিসাবে প্রতিদিন আসছে ১১ কোটি ডলার প্রবাসী আয়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে তিন বিলিয়ন ডলারে রেমিট্যান্স পৌঁছাতে পারে  বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটা হলে একক মাসে দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে প্রবাসীদের আয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থপাচার কমেছে। কমেছে হুন্ডি কারবারিদের দৌরাত্ম্যও। পাশাপাশি খোলা বাজারের মতোই ব্যাংকে রেমিট্যান্সের ডলারের দাম পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে প্রবাসীরা। তাছাড়া সামনে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখেও বেশি বেড়েছে রেমিট্যান্স আসার গতি।

বাংলাদেশ ব্যাংকে সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মাস মার্চে প্রথম ১৫ দিনে আসা রেমিট্যান্সের ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় করলে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে)  টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ হাজার ২০৪ কোটি টাকার বেশি। এ ১৫ দিনের রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৭ কোটি ১১ লাখ ডলারের বেশি, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে ১৩ কোটি ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১১৫ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স  এসেছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩৫৫ কোটি ডলার বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৯৪ কোটি ডলার। তাছাড়া চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট থেকে টানা মাস দুই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে প্রবাসী আয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, দ্বিতীয় মাস আগস্টে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, চতুর্থ মাস অক্টোবরে  ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, ৫ম মাস নভেম্বরে ২২০ কোটি ডলার, ৬ষ্ঠ মাস ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, ৭ম মাস জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার এবং ৮ম মাস ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বিডি২৪অনলাইন/ই/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর