বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে বুধবার (২৮ এপ্রিল) এ বোর্ড গঠন করা হয়। বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের সদস্যদের একজন অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।
ডা. জাহিদ বলেন, বাসায় চলা চিকিৎসার সঙ্গে আরও কিছু নতুন ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ওষুধ যোগ করার পরিপ্রেক্ষিতে আলহামদুল্লিলাহ উনি (খালেদা জিয়া) এখন স্টেবল।
ডা. জাহিদ জানান, ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে এভার কেয়ার হাসপাতালের ৭ চিকিৎসক ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের তিন সদস্য রয়েছেন। এ বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার। এ বোর্ড এখন পর্যন্ত তার যেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, তার রিভিউ করেছেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়াকে তারা পরীক্ষা করে আরও কিছু পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন। পরীক্ষাগুলো আজকে অথবা কালকে হবে। সেসব পরীক্ষা রিভিউ করে তার সার্বিক চিকিৎসার প্ল্যানিংটা সম্পন্ন হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভার কেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরবর্তীতে সেখানে ভর্তি করা হয়। গত রাতে তার সিটি স্ক্যান (চেস্ট), ইসিজি, ইকো ইত্যাদি হৃদরোগের পরীক্ষাগুলো করা হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল তার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
অধ্যাপক জাহিদ বলেন, গতকালকে চেস্টে যে সিটি স্ক্যান হয়েছে, সেখানে বিন্দুমাত্র ‘ইনভলবমেন্ট’ নেই। উনার হৃদযন্ত্রের মধ্যে কোনও ধরনের কার্ডিও সমস্যা নেই। উনার কোনও করোনা উপসর্গ নেই। উনি এখন নন-করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসার নিয়মেই আছে- দুই সপ্তাহের পরে রোগীর যদি কোনও সিমট্রম না থাকে, তাহলে করোনা টেস্ট আর করানোরই প্রয়োজন নেই। তখন ধরে নিতে হবে- উনার কাছ থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর সুযোগ নেই।
এমকে