যাত্রা শুরু: নীতিমালা সঙ্কটে আম রফতানিতে ভোগান্তি

১৭ জুলাই ২০২১

দেশের রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আম উৎপাদন হয়। এ আম বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো আম রফতানি সংক্রান্ত তেমন নীতিমালা না থাকা। পূর্ণাঙ্গ একটি নীতিমালা তৈরি হলে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ আম রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হয়। ব্যক্তি উদ্যোগে প্রথমবার আম রফতানি করতে গিয়ে এ নীতিমালা সঙ্কটের ভোগান্তি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন মাহতাব আলী। মাহতাব আলীর মতোই বাংলাদেশ থেকে এবারই প্রথম আম রফতানি শুরু হয়েছে।

মাহতাব আলী রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমটিবি অ্যাগ্রো এ্যান্ড গার্ডেন’র স্বত্ত্বাধীকারী, বাংলাদেশ ফল সবজি এ্যালাইড প্রোডাক্টক এক্সপোটার্স এ্যাসোসিয়েশসের সদস্যও তিনি। হংকংয়ে আমের একটি চালান পাঠিয়েছেন তিনি। দেশটির এক্সিয়াম রিসোর্স লিমিটেড’র কাছে পাঠানো চালানটি পৌঁছে সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬ টায়। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফাইট বি জি ০৭৮ বিমান চালানটি নিয়ে যায় সে দেশে।

মাহতাব আলী জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কন্টাক্ট ফার্মার আহসান হাবিবের ম্যাংগো প্রজেক্ট থেকে সংগ্রহ করা আম্রপালি,ফজলি ও বারী ফোর আম রয়েছে চালানটিতে। হংকংয়ের বাইরে দেশীয় কয়েকটি স্বনামখ্যাত শপিংমল, ও প্রতিষ্ঠানের কাছেও আম সরবরাহ করায় ইতোমধ্যেই তার প্রতিষ্ঠানের ব্রান্ড ইমেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সরবরাহের আগে আমকে আকর্ষনীয় ও উপহার প্রদান উপযোগী বক্স করে সবচেয়ে উন্নত ও দৃস্টিনন্দন প্যাকিং করা হয়।

আম রফতানিকালে মুখোমুখি হওয়া প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে মাহতাব আলী জানান, বড় সমস্যা- দেশে নীতিমালা স্পষ্টভাবে এক জায়গায় না থাকা ও কার্গো বিমানে পণ্য উত্তোলনকারীরা যথাযথভাবে আম তুলে না দেয়ায় স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে ঝুঁকি থাকে আমের।

তিনি বলেন, তেমন নীতিমালা না থাকায় হংকংসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি নিজেই আম রফতানির ব্যবস্থা করেন। হংকং থেকে পণ্য রফতানির সংক্রান্ত বিধি-বিধান পেতেও একমাস পার হয়। এরপর হংকংয়ের আম রফতানি নীতিমালা অনুযায়ী দেশে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পেস্টিসাইড এ্যানালাইটিক্যাল ল্যাবরেটরী কীটতত্ব বিভাগে আম পরীক্ষার করা হয়। এ পরীক্ষাটি ব্যয়বহুল। পরীক্ষা শেষে সনদ পাওয়ার পরেই আম পাঠানো হয়। তিনি জানান, রফতানি করা পণ্যে ক্ষতিকারক কিছু নেই- আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী পচনশীল ফ্রেশ সবজি ফলমুলের ক্ষেত্রে এ সনদ দেয় রফতানিকারক দেশই।

আম সংশ্লিস্ট ও উদ্যানতত্ত্ববিদরা জানান, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আমের বাজার অনুসন্ধান করা, আমের মৌসুমে বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি দূতাবাস কর্মকর্তা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আম উৎপাদনকারী জেলা ও বাগান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা, প্যাকেজিং সামগ্রীর ওপর ভর্তুকি প্রদান, পরিবহন বিমানের ব্যবস্থা করা ও ভাড়া সহনীয় রাখা, রফতানি শুল্ক মওকূফসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারিভাবে।

এমকে

 


মন্তব্য
জেলার খবর